প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুরুদাসপুরে এলজিইডি’র নির্মাণ কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

তাপস কুমার, নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের অধিনে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর ও গেট নির্মানে নিন্মমানের ইট, বালি, রড ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা যায়, ইজিপি প্রকল্পের আওতায় ১০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি প্যাকেজে ৫৩ লাখ চার হাজার ৩২৫ টাকা ব্যয় বরাদ্ধে প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা হবে। ওই তিন প্যাকেজের দুটি কাজ পায় নাটোরের আহসান হাবীব বাবু নামের ঠিকাদার আর অন্যটি স্থানীয় মেসার্স আনোয়ার টেডার্স।

বাবু একটি প্যাকেজে উপজেলার নওপাড়া, কুমারখালী ও মশিন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকুলে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২০ টাকা। অপরটিতে চারটি প্রতিষ্ঠান আনন্দনগর, বামনকোলা চাঁচকৈড় খলিফা পাড়া ও চন্দ্রপুর-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকুলে ১৯ লাখ ৭২ হাজার ৬৪৭ টাকা।

মেসার্স আনোয়ার টেডার্সকান্দাইল, হামলাইকোল ও দক্ষিণ নারি বাড়ী মোজাম্মেল হক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকুলে ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫৮ টাকা।

সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা ঠিকাদার বাবুর কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও অনিয়মের কারনে উপজেলা প্রকৌশলী নওপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধিন গেট ভেঙ্গে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদার বাব’র নির্মানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানেও ওই একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের নওপাড়া ও নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চন্দ্রপুর-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন নম্বর ইট, ডাষ্ট খোয়া ও নিন্মমানের রড ব্যবহার করে নির্মান কাজ করতে দেখা যায়।

নওপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালেেয়র প্রধান শিক্ষক রেজাঊল করিম এবিষয়ে জানান, বলার কিছু নেই, তারা ক্ষমতাধর মানুষ। শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। যে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে শিশুদের জীবন হানী না ঘটে। কাজ ভালভাবে করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অফিসেও গিয়েছি। তার পরও কাজের চিত্র ওই একই রকম।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আহসান হাবীব বাবু’র সাথে কথা বললে তিনি প্রতিনিধিকে জানান, না চেনেই অনেকে অনেক কথা বলে। তবে কাজে কোন ফাঁকি দেয়া হচ্ছেনা। সিডিউল মোতাবেক মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। নওপাড়া স্কুলের গেটটি ডিজাইন মোতাবেক না হওয়ায় ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার জানান, সিডিউল মোতাবেক কাজ না করায় নওপাড়া স্কুলের এক পাশের্^র পিলার ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বালু পরিবর্তন করা হয়েছে। তার পরও বিষয়টি শক্ত করে দেখা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ