প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন সহজ করতে নিরাপত্তা পরিষদের তাগিদ

আসিফুজ্জামান পৃথিল: বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাবার প্রক্রিয়া সহজ করতে মিয়ানমারকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এসময় রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদে ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের সরকারকে আহ্বান জানায় নিরাপত্তা পরিষদ।

একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরো মানবিক সাহায্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশের সাথে কাজ করার কথাও বলা হয় বৈঠক পরবর্তী পঠিত বিবৃতিতে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত হার অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চায়।’

মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিশ্চিন শারনের বার্গনের জানিয়েছেন দেশটির সরকারকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরাতে অবশ্যই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে। যা ইতিবাচক।’ তবে বার্গনার আরো জানান রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু এবং বৌদ্ধ সংখ্যাগুরুদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে আসতে হবে। সেজন্য স্থিতিশীল মিয়ানমার প্রয়োজন। যেখানে তারা সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে।’ বার্গনার আরো জানিয়েছেন মিয়ানমারের নেতা অং সাং সুচির সাথে তার আলোচনা উন্মুক্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলো। ২ মাস পূর্বে দ্বায়িত্ব নেবার পর বার্গনার দুইবার মিয়ানমার সফর করেছেন। সেপ্টেম্বরে তার আবার মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে। মিয়ানমার সম্পর্কে বার্গনার বলেন, ‘আমি মনে করিনা মিয়ানমার চাপের মুখে কোন কিছু করার মতো দেশ। কিন্তু সব কিছুই নিরাপত্তা পরিষদের উপর নির্ভর করে।’

নিরপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ওলফ স্কগ মনে করেন নিরাপত্তা পরিষদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তবে তার দেশ মনে করে রোহিঙ্গা ইস্যতে উন্নতির গতি খুবই ধীর। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে অনেক কালক্ষেপণ করা হয়েছে এই ব্যপারে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা একমত হবেন। এটাও মানতে হবে গৃহিত পদক্ষেপের অধিকাংশই যথেষ্টর চাইতে কম। যতদিন পারা যায় কাউন্সিল নিজেদের সরাসরি জড়িত করা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু চাপ অব্যহত রাখতে হবে।’

১৯৭৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১২ এবং ২০১৫ সালে মোট ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করলে বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। জাতিসংঘের হিসেবে এসময় কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সব মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। মিয়ানমার সরকার তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করলেও তাদের গ্রহণে সময়ক্ষেপণ ও গড়িমশি করছে। রোহিঙ্গারা কয়েক শতাব্দি ধরে রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করেনা। আরব নিউজ, ইয়ন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত