Skip to main content

ফতুল্লায় মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার একাধিক পরিবার

সুজন কৈরী: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মিথ্যা মামলায় একাধিক পরিবার হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, ফতুল্লার রসূলবাগের পূর্ব ইসদার গ্রামের বাসিন্দা ও আজাদ-রিফাত ফাইবার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোগ দখলীয় বাড়ী দখল করার জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছেন। ভুক্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হাজী আবুল কাশেম ফতুল্লার বসূলবাগের চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, আবুল কাশেম তার প্রতিবেশি হয়েও দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি দখল করার জন্য নানা ধরণের অপচেষ্ট চালিয়ে আসছেন। আমার ভাই ফেরদৌস মোল্লা, আরেক ভাইয়ের স্ত্রী প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বাকের আলী ভূইয়ার কন্যা ফারজানা আক্তার (পলি), ফিরোজ মোল্লাসহ আমাদের নামে ৮টি মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন আবুল কাশেম। এছাড়াও স্থানীয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউলের জমি দখলের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাছাড়াও এলাকার অনেকের জমি দখল করার জন্য নানা ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। মতিন বলেন, আমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়া সত্বেও স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারছি না। মিথ্যা মামলার কারণে আমিসহ আমার পরিবার ও বাড়ির লোকজন নানাভাবে হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছি। ব্যবসা বাণিজ্য, পরিবারের শিশু, সন্তানদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবুল কাশেম আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দেওয়ানী, মানিসহ ৮ টি মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে মামলাগুলোর ৫টি খারিজ করে দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। ৩ টি মামলা চলমান আছে। ৫টি মামলায় কোর্টের রায় পাওয়া সত্ত্বেও আমার পৈ‌ত্রিক জায়গায় নির্মাণ কাজ করতে গেলে আবুল কাশেম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কাজ বন্ধ করাসহ প্রাণনাশ, মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনযাপন করছি। শুধু তাই নয় যেকোন কিছুর বিনিময়ে বাড়ি দখল করার হুমকি দিচ্ছে। মতিন বলেন, বর্তমানে হাজার কোটি টাকার মালিক আবুল কাশেম কয়েক বছর আগেও ডাইং ফে‌ব্রিক‌সের কর্মচারী ছিলেন। এর মাধ্যমেই তার সংসার চলতো। একপর্যায়ে আবুল কাশেম এলাকার মানুষের সাথে বাড়ি ও জমি দখলের প্রতারণা শুরু করেন। আর এই প্রতারণা ও অত্যাচার করে বর্তমানে তিনি শিল্পপতি। ডাইং ফে‌ব্রিক‌সের মালিক হয়েছেন। মতিন আরো বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে মামলাবাজ আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রসাশক, পুলিশ সুপার, ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ভূমিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৪ কে বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে আবেদন করেও কোন ফল পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আপনারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা ও সহযোগিতা কামনা করছি।

অন্যান্য সংবাদ