প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে চাওয়া হচ্ছে’

হ্যাপী আক্তার : আগামী জাতীয় সংসদকে সামনের রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে চায় অবশিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ। তৃতীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- একটা আপদ আরেকটা বিপদ। তাই সমমনা দলগুলো আগামী নির্বাচনের আগেই একত্রিত হয়ে জানান দিতে চায় শক্তির। এদিকে, সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ক্ষমতাসীন জোটকে সমর্থন দিতেও তৈরি হচ্ছে নতুন আরেকটি জোট।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে আসছে গণতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হাতবদল। শক্তি ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে এই দু’টি দলের ধারেকাছেও নেই দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল। দু’টি দলই নেতৃত্ব দিচ্ছে বড়ো দু’টি জোটের।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরেও রয়েছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বেশকিছু রাজনৈতিক দল। এবারের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবশিষ্ট দলগুলো ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে তৎপরতা। সিপিবি’র নেতৃত্বে বাসদ, বিপ্লবী ওয়র্কার্স পার্টি ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগসহ ৮টি দল নিয়ে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- একটা আপদ আরেকটা বিপদ। যদি নির্বাচন হয় তাহলে আমি বলতে পারি যে, এবার আর দ্বিমুখী প্রতিযোগিতা হবে না। আমাদের শক্তি একটা ত্রিমুখী প্রতিযোগি হিসেবে এবারের নির্বাচনে উপস্থিত হতে সক্ষম হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, গণতান্ত্রীক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশময় জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য, জনগণের একটা নতুন রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবো আমরা।

এদিকে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা’র প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাসদের আসম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না মিলে গঠন করতে যাচ্ছেন যুক্তফ্রন্ট।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সব মানুষের ধারণা ছিলো যে, আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে কিছু হবে না। আর এখন সব মানুষ মনে করছে, এই দুই দলের বাইরে প্রগতিশীল, ইতিবাচক একটা ধারা গড়ে উঠা উচিৎ। আর সেটা গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, এই দুই দলের যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা প্রায় একই কাজ কবে। খুব বেশি ব্যতিক্রম করবে না। তাই আমরা চেষ্টা করছি যাতে মানুষ তার ঠিকানা পায়।

অন্যদিকে, বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান তৃণমূল বিএনপি’র প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে জাগো দল, একমত আন্দোলন ও ইসলামিক ফ্রন্টসহ কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হচ্ছে ‘অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী জোট’। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করাই এই জোটের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এলে সেই ক্ষমতার অংশীদারও হতে চায় এই জোট।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, যদি ১৪ দলে একাত্ম হওয়ার প্রশ্ন উঠে সেটাও সম্ভব। আবার যদি তার বাইরে থেকে একটা জোট হিসেবে আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় সেটাও সম্ভব। তবে আমাদের হয়তো আওয়ামী লীগের যে প্রতীক সেই নৌকা প্রতিকেই হয়তো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে হতে পারে। নাজমুল হুদা বলেন, এটা করতে না পারলে আমাদের যে উদ্দেশ্য সেটা আমরা সফল করতে পারবো না। সূত্র : সময় টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ