প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। যে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি তা যেন অব্যাহত থাকে। এই অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৩ জুন বিশ্বব্যাপী পাবলিক সার্ভিস ডে পালিত হয়ে আসছে। আর সরকারি কর্মচারীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি ও প্রণোদনা দিতে সরকার ২০১৫ সালে জনশাসন পদক নীতিমালা করার পর ২০১৬ সাল থেকে এই ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন পদক বিতরণ করে আসছে। ২৩ জুলাইকে বাংলাদেশে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস হিসেবেও ঘোষণা করেছে সরকার। রাজনীতিবিদদের কাজ করে যেতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি, ক্ষমতা আর জেলখানা পাশাপাশি এটা আমরা জানি। আমাদের কখনও কারাগারে কখনও নানা ধরনের যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে। কিন্তু দেশটাকে ভুগতে হয়েছে, দেশের মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করেছে, সেটা হচ্ছে বড় কথা। দেশের কল্যাণে বঙ্গবন্ধু কন্যা তার নেয়া নানা পদক্ষেপ আর পরিকল্পনা কথা তুলে ধরে বলেন, আমি সব সময় মনে করি আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, জাতির পিতার কন্যা। সেই হিসাবে সবাই আমার পরিবার। আপনজন হারিয়ে আমি বাংলাদেশে এসেছি। এই দেশের সব মানুষ আমার পরিবার।

শেখ হাসিনা বলেন, কোনো কাজ যেন থেমে না থাকে, কোনো কাজ যেন পড়ে না থাকে। আপনাদের একটা ফাইল দেওয়া হল এটা পড়ে থাকল, হারিয়ে গেলে, ভুলেও গেলেন। শেখ হাসিনা বলেন, কোন কাজ করলে জনসেবা নিশ্চিত হবে- সেটা ভাবতে হবে সবার আগে। কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে দেখতে হবে, তাতে আদৌ জনকল্যাণ হবে কি না। অহেতুক অর্থ খরচের জন্য এমন এমন সব প্রজেক্ট নিয়ে আসা হয়, যার হয়ত কার্যকারিতাই নাই, বা শুভ ফল দেশের মানুষ পাবে না। তিনি তৃণমূলের মানুষের দিকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ, কৃষক, মেহনতী মানুষ সকলের ট্যাক্সের টাকায় বেতন, আরাম-আয়েশ সব কিছু। এটা মাথায় রাখতে হবে। তাদের সেবা করাটা সেই চিন্তাটা সব সময় মাথায় থাকতে হবে। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আপনাদের দায়িত্ব। একটা সময় ছিল, সরকারি চাকরি কাজ করলেও বেতন, না করলেও বেতন- এই চিন্তাটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এক সময় ফাইল বাঁধতে লাল ফিতা ব্যবহার করা হত। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বোঝাতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কথাটি প্রচলিত হয়। এখন লাল ফিতার বদলে ব্যবহার করা হয় সাদা ফিতা। সাদা ফিতা ব্যবহার হলেই যে কাজ দ্রুত হবে, তা কিন্তু নয়।ওই লাল ফিতা এখনও প্রচলিত আছে। ওই দৌরাত্ম্যটা যেন না থাকে। সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে আরও আন্করিক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলে, সিভিল সার্ভিসের উদ্দেশ্য জনসেবা। এ সার্ভিসের সদস্যগণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পান। পর্যায়ক্রমে তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করে জনসেবায় অধিকতর ভূমিকা পালন করার জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উচ্চতর ডিগ্রির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা তাদের দেশের ভেতরে-বাইরে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মচারীদের সেই মেধা, রেযাগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। বঙ্গবন্ধুও জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কেরেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আমরাও করছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এই অর্জন সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচেষ্টার ফসল। সরকার দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সরকারের কর্মকর্তাদেরও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকায় মানুষের চাপ কমাতে আশপাশের লোকালয়ে বহুতল আবাসিক ব্যবস্থা করে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীগুলো খনন করে নৌপথ চালু করা, শহরের চার পাশে বৃত্তাকার এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের ঘোষণা আমরা করিছি। সেই কাজও বাস্তবায়ন হচ্ছে। আমরা রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ কমাতে মেট্রোরেল করছি। আমাদের সক্ষমতাও বেড়েছে। মানুষষের যেন সার্বিক উন্নয়ন হয়। আমার রাজনীতি মানুষের উন্নয়ন করা। সেই লক্ষে তিনি স্বাধীনতা অর্জন করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন এদেশের মানুষ বুঝেছিল একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়া মানে জনগণের ভাগ্যের উন্নতি। বাংলাদেশ বর্তমানে সারা বিশ্বের বিস্ময়। উন্নয়নের রোল মডেল। সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের প্রবণতাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে এবার ১২ জন কর্মকর্তা এবং দুটি প্রতিষ্ঠান জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ২৭ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে এবারের জনপ্রশাসন পদক দেওয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান জনপ্রশাসক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ৩৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে পদক প্রদান করা হয়। এ সময় তাদের হাতে একটি করে মেডেলে, ক্রেস্ট ও সদন তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ। এতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা, তিনবাহিনী প্রধানরা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ