প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জঙ্গি’ অপবাদ থেকে মুক্তি পেল সাইফুল ও শাওনের পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পুলিশের চার্জশিটে বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার ও সহকারী বাবুর্চি জাকির হোসেন শাওনের সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ না মেলায় তাদের পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

নিহত দুজনের পরিবারের সদস্যরাই বলেছেন, তারা অপবাদ থেকে মুক্তি পেলেন। সোমবার সন্ধ্যায় সাইফুল ও শাওনের পরিবারের সদস্যরা কাছে প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন। সাইফুল ও শাওন হলি আর্টিজানে হামলার সময় মারা যান।
তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার পর তাদের অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। অনেকেই তাদের সন্দেহের চোখে দেখেছেন। তবে এই দুজনের পরিবারের বিশ্বাস ছিল তারা নির্দোষ।

বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমাদের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। অনেকেই বলেছে সাইফুল জঙ্গি, তাই সে অভিযানে মারা গেছে। কিন্তু আমি জানি আমার স্বামী সেরকম না। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি সে নির্দোষ কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনেননি। এখন প্রমাণিত হয়েছে, সাইফুল দেশবিরোধী কোনও কিছু করেনি। আমরা অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি।’

সাইফুলের স্ত্রী সনিয়া বেগম তিন সন্তান ও শ্বাশুড়িকে নিয়ে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামে থাকেন। সাইফুলের বৃদ্ধ মা সমমেহের বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তিনি এখনও ছেলের শোকে মূর্ছা যান।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরদিন আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী ও নিরাপত্তা-বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে নিহত হয় বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। প্রথম দিকে সাইফুল চৌকিদারকে জঙ্গিদের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হতো। তবে সোমবার (২৩ জুলাই) পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে সাইফুল চৌকিদারের কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

তার স্ত্রী সনিয়া বেগম বলেন, ‘আমি এখন মনে করবো একটি দুর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা গেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে মন চায় না এই বিষয়ে। ছেলে মেয়েরা এখনও কান্না করে। সাইফুল বিদেশে ছিল, বিদেশ থেকে দেশে এসে সন্তানদের সঙ্গে থাকার জন্য হলি আর্টিজানে কাজ শুরু করে। কিন্তু তার সন্তানদের সঙ্গে থাকা হলো না। সে যখন বেঁচে ছিল, দিনে চার পাঁচ বার ফোন দিতো। আমার দুই মেয়ে এখনও তাদের বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। তারা এখন বুঝতে পেরেছে তাদের বাবা মারা গেছেন। তবে সন্তানরা বড় হয়ে বলতে পারবে, তাদের বাবার কোনও হাত ছিল না এই ঘটনায়।’

সাইফুলের তিন সন্তান সামিয়া (১১), ইমলি (৯) ও ২২ মাস বয়সী হাসান। এছাড়াও সাইফুলের মা সমমেহের বেগম ও নিজের মা মমতাজ বেগমকে নিয়ে ৬ জনের সংসার চালাতে হচ্ছে সাইফুলের স্ত্রীকে। হলি আর্টিজান বেকারির মালিক কর্তৃপক্ষ মাসে ১০ হাজার করে টাকা দিয়ে এই পরিবারকে সহযোগিতা করছে। সাইফুলের ছোট ভাই মালায়শিয়া প্রবাসী।
সোনিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘সাইফুলের লাশটিও বাড়িতে দাফন দিতে পারলাম না। আমার ঢাকায় যাওয়া হয় না, কবরটা পর্যন্ত ছেলেমেয়ে দেখতে পারে না।’

গুলশানে অপারেশন থান্ডার বোল্ট অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাওনকে আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী। গুলশান থানা পুলিশের কড়া পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার তিন দিন পর মৃত্যু হয় তার। শাওন ওই রেস্টুরেন্টে বাবুর্চির সহকারী হিসাবে কাজ করতো। পুলিশ প্রথমে তাকে জেএমবির সদস্য বলে জানিয়েছিল। পরে তদন্তে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না মেলায় তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শাওনের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। সে হলি আর্টিজানে একবছর কাজ করে। শাওনের বিষয়ে চার্জশিটে কোনও জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই।

শাওনের বাবা আব্দুস সাত্তার সোমবার চার্জশিট দাখিলের পর তার প্রতিক্রিয়ায়  বলেন, ‘আমার ছেলে সবচেয়ে ছোট কর্মী ছিল ওই বেকারির। তাকে যেভাবে মারা হয়েছে তার বিচার আমি শুরু থেকেই চেয়ে আসছি। কিন্তু আমি এর বিচার পাইনি। আমি জানতাম আমার ছেলে এমন না। কিন্তু এর কোনও সুরাহ হয়নি। আমি এখন শান্তি পাচ্ছি এটা শুনে যে, আমার ছেলে জঙ্গি না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চিকিৎসার অভাবেই মারা গেছে আমার শাওন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাচ্ছি। আমরা স্বামী-স্ত্রী বয়স্ক। আমরা দিন আনি দিন খায়। আমাদের কেউ খোঁজ নেয় না। ছেলে হারাইলাম এর বিচার চাই। ’

সোমবার চার্জশিট দাখিলের পর সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই ঘটনায় সাইফুল চৌকিদার ও শাওনের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনার আগ পর্যন্ত তাদের বিষয়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেনি।’ সূত্র : বাংলা ‍ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত