প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মসজিদ লিখলেই মুছে লেখা হচ্ছে কেল্লা!

ডেস্ক রিপোর্ট : কয়েক মাস ধরে বারবার বোর্ডের ‘মসজিদ’ শব্দটি কারা যেন মুছে দিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে লেখা হচ্ছে। ফের মুছে দেয়া হচ্ছে। জবাবদিহিতা চেয়ে পুরাতত্ত্ব বিভাগকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লির সংখ্যালঘু কমিশন।

মসজিদের সামনে দাঁড়িয়েই সগর্বে স্থানীয় বাসিন্দা দীপঙ্কর চহ্বান বলেন, ‘চুপিচুপি নয়, আমরাই মুছে দিয়েছি। পাহারাদাররা আবার মসজিদ লিখেছে, আবার মোছা হবে।’ কারণ জানতে চাইলে তার জবাব, ‘এটা মোটেই মসজিদ নয়, রানা প্রতাপের তৈরি কেল্লা। সুলতানরা কেল্লা দখল করেছিল বলে কি সেটা মসজিদ হয়ে যাবে?’

চতুর্দশ শতাব্দীর খিড়কি মসজিদ এটি। দক্ষিণ দিল্লির সাকেতে প্রেস এনক্লেভ মার্গের পাশে শপিং মল। তার উল্টো দিকেই খিড়কি গ্রাম। নামে গ্রাম হলেও উঁচুনিচু দালান-কোটা গিজ গিজ করছে। এই মহল্লার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে খিড়কি মসজিদ। তাকে ঘিরেই উত্তাল গোটা এলাকা। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রানা প্রতাপের তৈরি কেল্লা দখল করে দিল্লির সুলতানরা মসজিদ তৈরি করেন। তাই একে মসজিদ না বলে খিড়কি ফোর্ট বলতে হবে। চতুর্দশ শতকের সুলতান কী করে ষোড়শ শতকের রানার কেল্লা দখল করলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

মসজিদের প্রধান ফটকে পুরাতত্ত্ব বিভাগের বোর্ড। সেখানে খিড়কি মসজিদকে সংরক্ষিত সৌধ বলে বিজ্ঞপ্তি সাঁটিয়ে দেয়া আছে।
ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৩৫১ থেকে ১৩৮৮ সালের মধ্যে ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলে মসজিদটি তৈরি করান ফিরোজ শাহর প্রধানমন্ত্রী মালিক জুনা শাহ তেলঙ্গানি। মোহম্মদ বিন তুঘলকের তৈরি জাহাপনাহ্ শহরে মোট সাতটি মসজিদ তৈরি করিয়েছিলেন মালিক জুনা ও তার বাবা মালিক মকবুল। ইতিহাসবিদ ও দিল্লির স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ রানা সফভি বলেন, ‘খিড়কি মসজিদ তৈরি হয়েছিল চতুর্দশ শতাব্দীর শেষার্ধে। তার প্রায় ২০০ বছর পরে ষোড়শ শতাব্দীতে মেবারের রাজপুত প্রতাপ সিংহের রাজত্ব। তাহলে রানা প্রতাপের তৈরি কেল্লা দখল করে ফিরোজ শাহ মসজিদ বানাবেন কী করে?’

কিন্তু এই ইতিহাস মানতে রাজি নন সাকেতের চহ্বান, সাইনি পরিবারের লোকেরা। তাদের দাবি, এ পাড়ায় মসজিদ রেখে নমাজের অনুমতি দেয়া যাবে না। রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজের সরকার ইতিহাসের পাঠ্যবই বদলে দিয়ে লিখেছে, হলদিঘাটির যুদ্ধে রানা প্রতাপ হেরে যাননি। বরং মুঘল সম্রাট আকবরকে যুদ্ধে হারিয়ে দিয়েছিলেন। সেই নতুন করে লেখা ইতিহাসেরই ছায়া এবার দিল্লিতে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এর পেছনে রয়েছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) স্থানীয় নেতারা। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে আসতে রাজি নন।

কেল্লা বনাম মসজিদ বিবাদের শুরু কয়েক মাস আগে। খিড়কি মসজিদে নমাজের অনুমতির দাবি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আইনজীবী শাহিদ আলি। এপ্রিলে হাইকোর্ট রায় দেন, কেন্দ্রই এই সিদ্ধান্ত নেবে। তারপর থেকেই প্রচার শুরু হয়েছে, ওটা আসলে মসজিদই নয়। সৌধটি ইসলামিক ও হিন্দু স্থাপত্য রীতির মিশ্রণে তৈরি বলে আরো গোলযোগ বেধে গেছে। স্থানীয়দের একাংশ জানায়, মসজিদের মাথায় ছাদ রয়েছে। কেল্লার ভেতরে নিশ্চয় মন্দির ছিল।

তবে দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান জাফারুল ইসলাম বলেন, ‘এএসআই-এর কাছে জানতে চেয়েছি- ওই মসজিদ আদতে কেল্লা বলে যে প্রচার চলছে, তার খণ্ডনে তারা কী করেছে? জবাব পাইনি। খিড়কির সামনে এএসআই শুধু সংরক্ষিত সৌধের বোর্ডই লাগিয়ে রেখেছে। মসজিদের ইতিহাসটা লেখেনি।’ এ ব্যাপারে এএসআই মুখ খুলতে নারাজ। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আইন মেনে ব্যবস্থা হবে। সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত