প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এরশাদের ভারত সফর, রাজনীতিতে উত্তাপ

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারত সরকারের আমন্ত্রণে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সফর, দেশের রাজনীতিতে ছড়িয়েছে উত্তাপ। জল্পনা-কল্পনা আর হিসেব-নিকেষে চলছে, রাজনৈতিক সমীকরণ। মেলছে নানান ডালপালা। রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে নয়া মেরুকরণ। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এরশাদ ও জাপা। সবার দৃষ্টি দিল্লির দিকে। কী হচ্ছে দিল্লি সফররত এরশাদের বৈঠকে। সরকারের নজরদারিও আছে সেখানে। আর বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আছে, এরশাদের পথ চেয়ে।

গেল রোববার জাতীয় পার্টির শীর্ষ চার নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি সফরে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। ওইদিন সকালে দিল্লি পৌঁছে বিকেলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সর্ব ভারতীয় বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিংহের সঙ্গে রুদ্ধধার বৈঠক করেন জাপা চেয়ারম্যান। এরআগে দুপুরে ভারতীয় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হোটেল কক্ষে এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রত্যেকটি বৈঠকে দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ বাংলাদেশের রাজনীতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে দিল্লির একটি সূত্র।

এরপর সোমবার দুপুরে নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। বৈঠকে এরশাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহল আমিন হাওলাদার, সাবেক জ্বালানী ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি ও দলের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক সুনীল শুভ রায় ও জাপা চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত খালেদ আখতার। অপরদিকে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাউথ ব্লকের শীর্ষ কর্তারা।
ওই বৈঠকেও বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি ও জাপার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। প্রকৃত অর্থে বৈঠকে কী বিষয় আলোচনা হয়েছে,তা জানতে জাতীয় পার্টির শীর্ষ কয়েকজেন নেতার সঙ্গে যোগযোগ হলে, মুখ খুলতে চাননি কেউই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা ও সফররত জাপা নেতারও মুখে কুলুপ এটেছেন। তবে বিজেপি ও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ কাভার করেন এমন দুই জন সিনিয়র সাংবাদিকের কাছে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশের আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, সুষমা-এরশাদ বৈঠকে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চিন্তা ভাবনা কী, জাপা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা সুষমা। জবাবে এরশাদ সুষমাকে নিজ দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। পরে সুষমা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিষয়ে, ভারত সরকার জাতীয় পার্টির কাছে কী প্রত্যাশা করে, তা এরশাদকে পরিষ্কার বার্তা দেন বলেও দিল্লির একটি সূত্র আভাস দিয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির মধ্যে, ‘পার্টি টু পার্টি’ সর্ম্পক উন্নয়নের ব্যাপারে এরশাদ-সুষমা আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির থাকা না থাকার বিষয়ে সুষমা স্বরাজ ও রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে জাপার এক শীর্ষ নেতা। তবে তিনি জানান, ভারত সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী ও একই সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সিনিয়র দুই নেতার সঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সত্যিকার অর্থে কী আলাপ হয়েছে, তা দেশে ফিরেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিষ্কার করবেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এদিকে হঠাৎ ভারত সরকারের আমন্ত্রণে এরশাদের সফর ও হাইপ্রোফাইল নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে গুঞ্জন। এরশাদের ভারত সফরে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জাপা চেয়ারম্যানের সফর নজরদারি করছেন বলেও জানা গেছে। শুধু সরকারের পক্ষ থেকে নয়, বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এরশাদের এই সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভূমিকা কী হবে, তা এই সফরের পরই চূড়ান্ত করবেন এরশাদ। এছাড়া আগামী নির্বাচনে জোট-মহাজোটের রাজনীতিতে এরশাদের সফর নয়া মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

এদিকে জাপা চেয়ারম্যানের দিল্লি সফরে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন পার্টির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, যে কোনো কারণেই হোক স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জাতীয় নির্বাচনে পরোক্ষ বা প্রতক্ষ্যভাবে ভারতের একটা প্রভাব থাকে। তাই এরশাদের ভারত সফর আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বেশ ইতিবাচক ভূমিকায় রাখবে।
২০০৬ সালে ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটের ঘোষণা দেন এরশাদ। এছাড়া বিগত নির্বাচনের আগেও দিল্লি সফর করেছিলেন তিনি। এবারো ভারত সফর এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে এরশাদের দফায় দফায় বৈঠক, জোট-মহাজোটের রাজনীতিকে কোন দিকে নেয়, তা নিয়ে চলছে হিসেব-নিকেষ। সূত্র : ডেইলি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ