প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দায়মুক্তির সুযোগে শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছেই: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীলঙ্কার সংস্কারের উদ্যোগ তেমন কোনও কাজে আসছে না। দায়মুক্তির সুযোগে বন্দিদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চলছেই। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিচার ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ। গৃহযুদ্ধের সময়কার প্রিভেনশন অব টেরোরিজম অ্যাক্ট-পিটিএ’র আওতায় এসব নির্যাতন করা হচ্ছে। এছাড়া বন্ধ হয়নি বিনাবিচারে আটক রাখার প্রবণতাও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ২০১৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে তিন দশকের গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান হয়। দেশটির তামিল যোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে সেনা অভিযানের মুখে তারা পরাজিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পিটিএ’র আওতায় অনেককে গ্রেফতার ও বন্দি করে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির বিরুদ্ধে এখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।

শ্রীলঙ্কা সরকারের অনুরোধে জাতিসংঘ দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এরপর সোমবার (২৩ জুলাই) একটি প্রতিবেদন করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কোনটিই এখন পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকৃত উন্নতির জন্য এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জাতিসংঘের দূত বেন ইমারসন কিউসি দেশটির সরকারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, সামরিক, বিচারবিভাগীয় ও জেলখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দেশটির কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অনুরাধাপুরা জেলখানাও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে ইমারসন বলেন, পুনর্মিলন ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার প্রক্রিয়া এখন স্থগিত হয়ে গেছে। এই ব্রিটিশ ব্যারিস্টার বলেন, যারা নিয়মিত ও কৌশলগত নির্যাতনের জন্য দায়ী তাদের জন্য এখনও দায়মুক্তি বলবৎ রয়েছে। এছাড়া পিটিএ’র অভিযানের নামে উদ্দেশ্যমূলক বিচারের কারণে অসংখ্য ব্যক্তি ভুক্তভোগী হয়েছেন। তিনি বলেন, তামিল সম্প্রদায় ক্ষয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি অন্যান্য সংখ্যালঘুও কমে যাচ্ছে। অথচ তাদের ধারণা ছিল, সরকার তাদের মধ্যে সব ধরনের জাতীয়তাবাদী সমতা আনতে সক্ষম হবে।

ইমারসন বলেন, তিনি খুব নিষ্ঠুর ও নির্দয় পদ্ধতিতে নির্যতানের প্রমাণ পেয়েছেন। এসব নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে, লাঠি দিয়ে পেটানো, অস্বস্তিকর অবস্থায় রেখে দেওয়া, কেরোসিনে ডুবানো প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে শ্বাসরোধ করা, আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা, নখের নিচ দিয়ে সুচ ঢুকিয়ে দেওয়া, নানা ধরনের পানি নির্যাতন, বৃদ্ধাঙ্গুলি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা ও জননেন্দ্রিয় কেটে ফেলা। তিনি বলেন, ‘এসব মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যাপক পরিসরে দায়মুক্তি ও জবাবদিহিতার অভাব দূর করা দরকার। গৃহযুদ্ধের সময় ও পরে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। এসব ঘটনায জড়িতদের নিষিদ্ধ করা উচিত’।
ইমারসনের মতে, পিটিএ’র আওতায় গ্রেফতারের সংখ্যা কমলেও এটা এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে যা বন্ধ করা উচিত। ২০১৫ সালের নতুন সরকারও সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই পরিস্থিতির ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের প্রভাবের বিষয়টি সহজেই বোঝা যায়। এসব ব্যক্তি যেকোনও পরিবর্তন বা জবাবদিহিতার বিরোধী।

শ্রীলঙ্কার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮১ জন বন্দির এখনও বিচার শুরু হয়নি। তাদের মধ্যে ৭০ জনকে কোনও ধরনের বিচার ছাড়াই ৫ বছরের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। বিনাবিচারে আটক আরও ১২ জন ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্দী আছেন।

প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য ইমারসন অনেক বর্তমান ও সাবেক বন্দীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তাদের অনেকের কাছ থেকেই এমন ভাষায় লেখা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে যার ভাষা তারা বোঝেন না। এমনকি অনেকের কাছ থেকে শুধু সাদা কাগজের নিচের অংশে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যাপক নির্যাতনের বিষয়টিও সেখান থেকেই উঠে এসেছে।
তবে শ্রীলঙ্কা সরকার দাবি করেছে, তারা নির্যাতনের বিষয়টি জানে না আর স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে সব ধরনের অভিযোগের তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার বলেছে, তারা এ ধরনের অভিযোগের কোনও প্রমাণ পায়নি। এমনকি মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এসব অভিযোগ যায়নি। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত