প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেসবুক এবং ৩ তরুণ বদলে দিয়েছে বাংলাদেশে উদ্যোগের চিত্র

আসিফুজ্জামান পৃথিল: সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ফেসবুকে লগ-ইন করেন। বেশীরভাগ মানুষ কাজের ফাঁকে ফেসবুকে এসে থাকেন। কিন্তুন কিছু মানুষ ফেসবুককে কাজে ফাঁকি দেবার মাধ্যম না বানিয়ে ফেসবুককেই নিজেদের কর্মক্ষেত্র বানিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স খাতে ফেসবুক এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

তুলনামুলক কম বিনিয়োগ এবং বড় গ্রাহকের সমাবেশের কারণে ক্ষুদ্র এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ ফেসবুক। এ কারণেই মূলত  সাধারণ বাজারের তুলনায় অতি দ্রুত বিকাশ লাভ করছে ফেসবুক বাজার। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের মতে প্রায় ৩ লাখ ব্যবসায়ী ফেসবুকে তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

 

তবে ফেসবুক কেন্দ্রিক ব্যবসার প্রধান সমস্যা ঋণ পাওয়া। বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণের জন্য বহু বছর আগেই একটি বৈশ্বিক মডেলে রুপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা উচ্চ সুদহার। যেহেতু এই ফেসবুক উদ্যোক্তাদের পুঁজি কম, তাই উচ্চ সুদহার তাদের ব্যবসায় বড় অন্তরায়। এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন ৩ তরুণ আফিফ জামান, সিফাত সারওয়ার এবং আতাউর চৌধুরী। সদ্য ২০ পরুনো এই ৩ তরুণ গড়ে তুলেছেন শপআপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যারা অনলাইন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে। তাদের উদ্যোগের কারণে সল্প মাত্রার ঋণে সুদের পরিমাণ ১৮-২০ শতাংশের স্থানে ২-৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

বাংলাদেশের জন্য সুদের হার খুব বড় সমস্যা নয়। ক্ষুদ্রঋণ দাতারাও প্রায় শতভাগ সফলতার সাথে অর্থ উত্তোলনে সক্ষম হচ্ছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক বাংলাদেশে তাদের প্রদেয় অর্থের প্রায় ৯৮ শতাংশ ফেরত পাচ্ছে। শপআপের ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা শিফাত জামান সিএনবিসিকে বলেন, ‘সুদের হার সমস্যা নয়। সমস্যা হলো বর্কমান পদ্ধতিগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ খুব বেশী সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এ কারণে বহু উদ্যোগ শুরুর আগেই নষ্ট হয়ে যায়।’

 

তবে শপআপ নিজেরা ঋণ দেয়না। তারা ঋণগ্রাহক আর গ্রহীতার মধ্যে একটি প্ল্যাটফর্মের কাজ করে থাকে। এরফলে ক্ষুদ্রঋণদাতারা সহজেই গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও শপআপ ক্ষুদ্র ব্যবসা উদ্যোক্তাদের কারিগরি ও বাণিজ্য সহায়তাও দিয়ে থাকে। তারা একই সাথে অভ্যন্তরীন এবং আন্তর্জাতিক বিক্রি বাড়াতে ডিএইচএল এর সাথেও কাজ করছে। এর ফলে আরো বেশী মানুষ অনলাইন ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে ইঠছে। তথ্য ভান্ডার ইনডেক্স মুন্ডির তথ্য মতে বাংলাদেশ এর ৫৫ শতাংশ মানুষ স্বনির্ভর ব্যবসার সাথে জড়িত। শপআপের এই উদ্যোগ সংখ্যাটি আরো বাড়াবে সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে শিফাত জামান বলেন, ‘পৃথিবীজুড় বহু মানুষের জন্য উদ্যোক্তা হওয়া একটি স্বপ্ন। কিন্তু বাংলাদেশে এটি বাস্তবতা।’ শপআপ বিশ্বাস করে তাদের উদ্যোগ বাংলাদেশের নারীদের জন্য বেশী ফলপ্রসু হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতে বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ কর্মশক্তিই নারী। তাদের খুব সামান্যই ব্যবসার মালিক।

 

২০১৬ সালে প্রথম চালু হয় শপআপ। তারা এবছর ২০০০ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করার পরিকল্পণা করেছে। আগামী বছর থেকে তারা প্রতি প্রান্তিকে ১০ হাজার গ্রাহককে ঋণ দেবার পরিকল্পনা করছে। সিএনবিসি

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ