প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে চিকিৎসা করিয়ে চোখ-নাক-কান দিয়ে রক্তঝরা রোগ থেকে ইমরান সুস্থ্য 

রিকু আমির : নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ শিক্ষার্থী জিনাতের চোখ-নাক-কানসহ দেহের বিভিন্নস্থান দিয়ে যেমনি রক্তক্ষরণ হয়, তেমনি রক্তক্ষরণ হতো পাবনার কলেজ শিক্ষার্থী ইমরানেরও (ছদ্মনাম)। ভারতের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থ্য জীবন-যাপন করছেন।
সামাজিক কারণে প্রকৃত নাম ও পারিবারিক পরিচয় প্রকাশে আপত্তি জানিয়েছেন পাবনার ভেড়া সরকারি কলেজের  স্নাতক শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইমরান।
২০১৪ সালের শেষদিকের এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ইমরান চোখ মেলতে পারছিলেন না। এত ঘাবড়ে তার মাকে ডাকেন। মায়ের দেয়া কুসুম গরম পানির ভেজায় চোখ মেলতে পারেন ইমরান এবং দুজনেই বুঝতে পারেন- চোখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এর কিছুদিন পর এক দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় রক্ত পড়ে যায় থালায়। ইমরান বুঝতে পারেন- চোখ থেকে এই রক্ত পড়েছে। এরপর একেকদিন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক, চক্ষু চিকিৎসক- কারও কোনো চিকিৎসায়ই এটা কমছিল না।
এভাবে দেড় বছর চলে যায়।।
আর্থিকভাবে ইমরানের পারিবারিক অবস্থা এই রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাবার মতন নয়। মামাদের সহযোগিতায় ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতর মৌসুমে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ বাংলাদেশ আই হসপিটালে আসেন তিনি।
ইমরান বলেন, এখানকার চিকিৎসকরা বলেন দৃষ্টিশক্তিকে একটু সমস্যা আছে। রক্তক্ষরণের জন্য নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখাতে। পরে ল্যাব এইডে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখাই। উনার দেয়া ওষুধ ব্যবহার করে একমাস সুস্থ্য ছিলাম।
এক মাস পর শুধু চোখই নয়, কান-নাক ও বুকের লোমকূপ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু ইমরানের। এরপর ছুটে যান ল্যাব এইডের সেই নাক-কান-গলার চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু উপকার পাননি। পরে ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত সিএমসিতে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, ইমরান হ্যামোল্যাক্রিয়ায় আক্রান্ত।
তিনি বলেন, কোনো অপারেশন লাগেনি। সেখানকার চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগ মিলে আমার চিকিৎসা করে। প্রায় দেড় মাসের চিকিৎসায় সুস্থ্য হই। ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত এই সমস্যা আর হয়নি। সিএমসিতে প্রথম দফা ১ মাস ১০দিন ও দ্বিতীয় দফা ১৭দিন ছিলাম। দুই দফায় এক লাখ টাকার মতন খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।
জিনাতের প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ফেসবুকের একটি পোস্টের মাধ্যমে জিনাতের সম্পর্কে জানতে পারি। পোস্টে পাওয়া জিনাতের পরিবারকে জানাই সিএমসিতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে।
আগামী আগস্ট মাসের এক তারিখ জিনাত সিএমসির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তার বাবা মামুন বিশ্বাস সোমবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে তথ্যটি জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ