প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কারণে হাসনাত করিমের নাম চার্জশিট থেকে বাদ

সুশান্ত সাহা : গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর আলোচনায় আসেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম। কিন্তু তদন্তে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোনোভাবেই তার সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। মামলার আসামি জীবিত আটজনকে অভিযুক্ত করে সোমবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিটিটিসি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, হাসনাত করিমের নিজের বর্ণনার চেয়ে, অভিযুক্তদের কথা উপর ভিত্তি করে জানা যায়। এ ঘটনায় তার কোনো প্রকার যোগসাজশ ছিল না।

জানা যায়, হামলার পরেদিন সকালে একজন কোরিয়ান নাগরিকের গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর হাসনাত করিমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষকের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। হামলার পরদিন সকালে উদ্ধারকৃত জিম্মিদের মধ্যে রহস্যজনক আচরণের কারণে হাসনাত করিমকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযান শেষে আক্রান্ত হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয় হাসনাত করিম, তাহমিদ হাসিব খানসহ ৩২ জনকে। পরে হাসনাত করিম জানান, ১৩ বছর বয়সী সন্তান রাইয়ান করিমের জন্মদিন উদযাপন করতেই ওইদিন সন্ধ্যায় স্ত্রী শারমিন পারভীন ও কনিষ্ঠ সন্তান সাফা করিমকে নিয়ে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন। তবে হলি আর্টিজানে জিম্মিদশার বিভিন্ন ফাঁস হওয়া ভিডিও চিত্রে হাসনাত করিমকে রহস্যজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। রহস্যজনক আচরণের কারণে তাদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রাতে হাসনাত করিমকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের ৮ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ১৩ আগস্ট গুলশান হামলার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৪ আগস্ট গুলশান হামলা মামলায় গ্রেফতার হাসনাত করিমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। হাসনাত করিম বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। হাসনাত করিমের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল করিম। হাসনাত বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক। ব্রিটেনের নাগরিক হলেও সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এসে বাবার আর্কিটেক্ট ফার্মে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ