প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে জন প্রেমের ভাব জানে না, সে জন সোনা চেনে না

কাকন রেজা: কবি বন্ধুকে নিয়ে যে আমি সবসময় কিছুটা বিব্রত অবস্থায় থাকি, তা আমার নানা লেখায় জানিয়েছি। ‘হাল্লাবল’ ধরণের কবি, ওই কলকাতার শ্রীজাত যেমন, ওই ধরণের কথাটথা বলে আর কী। কলকাতার কবি’র উদাহরণ দিলাম অনেকটা বাধ্য হয়ে, বলতে পারেন হালে দেশে তেমনটা চোখে পড়ছে না বলেই। আমাদের মূলধারা বলে দাবীকৃত কবিকুলে এই চরম গ্রীষ্মেও শীতনিদ্রা চলছে। তা চলুক। আমার কবি বন্ধু আবার এ ধারার বাইরে। তবে তার আজকের আচরণে আমি বিস্মিত, সাথে যুগপৎ চিন্তিত। স্বভাবসুলভ খিস্তিখেউর, গপ্পো আর কবিতার বাইরে আজ সে গুনগুন করে গান গাইছে। তাও আবার যে সে গান নয়, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না, সে জন সোনা চেনে না’ এই গানটি। অবাক জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কী?
উত্তরে কবি বন্ধু বললেন, কেন প্রথম আলো’র খবর পড় নাই। দেহ নাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জ্বীন ঢুকছে, সোনার চাকতিরে বানাইছে মিশ্র ধাতু, বাইশ ক্যারেটের সোনা হয়া গ্যাছে আঠেরো ক্যারেট। বললাম, ব্যাপারটিতো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। বলেছে, ব্যাংকের সোনা ঠিকই আছে। তবে মেশিনের রিডিং হেরফেরে গন্ডগোলটি হতে পারে এমনটিও বলা হয়েছে।
কবি বন্ধু বললেন, হ্যার লাইগাইতো গাইতাছি যেই জনে প্রেমের ভাব জানে না, হ্যাই জনে সোনা চেনে না। যহন প্রেম মইরা যায়, তহন আর ভাব জমে না, সোনা চিনতেও ভুল হয়, এমনডাই ঘটেছে ‘বিবি’র ঘটনায়। আসলে সোনা কুনো ব্যাপার না, প্রেমডাই আসল। প্রেমের ভাবে থাকলে পিতলও সোনা হইয়া যায়, ভাব না থাকলে সোনা হইয়া যায় মিশ্র ধাতু। দুনিয়াডাই ভাবের, এইডা না বুঝলে সবি মিছা।
বললাম, বললাম পরিষ্কার করে বলো, ভাব বাদ দাও। ‘প্রথম আলো’ বলেছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানকৃত প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। আবার ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছে সবই ঠিক আছে, দু’য়ের মাঝখানের শুভংকরের ফাঁকটি কোথায়।
কবি বন্ধুর উত্তর, শুভংকরের ফাঁক বুঝতে হইলে, তোমার কয়ডা জিনিসের রসায়ন আগে বুঝতে হইবো, তাইলেই ফাঁক বন্ধ করণের ‘চিচিং বন্ধ’ মন্ত্র পাইবা। দুইদিন আগের ‘জানের জান’ যখন দুই দিন পরে ‘আব্বাজান’ বইনা যান, তখন কেমুন হয়! এমুন সম্পর্কের রসায়নডা যদি একবার বুঝবার পার, তয় কেল্লাফতে। ‘জান’ আর ‘আব্বাজানে’র মধ্যে যে ফাঁকখান আছে হেইডাই আসল ফরমুলা, ‘চিচিং বন্ধে’র মন্ত্র। বুঝবার পারছো নি-কী?
মাথা চুলকে বললাম, অ্যান্টেনার উপর দিয়ে গেলো, বুঝলাম না। স্বভাবসুল খেপে গিয়ে কবিন্ধু বললেন, তা বুঝবা ক্যা, বুঝবা তো খালি কান্দি কলা। হইছো তো সবতে বান্দর। তাও বনের বান্দর না, গলায় চেইন লাগাইনা রাস্তায় খেলা দেখাইনা বান্দর। মাস্টরে কইলো, সালাম দেও। তুমি দিলা। আবার কইলো, খুশিতো লাফ দেও। তুমি দিলা। মাস্টরে যা কয় তাই করলা কলা খাওনের আশায়। মানুষ হইলে তো মাথার উপর দিয়া না গিয়া ভিতর দিয়াই যাইতো। মগর মানুষ হইবার তো পারো নাই।
বুঝলাম অবস্থা ভালো না। বেশি কথা বললে পুরো ‘হাল্লাবল’ শুরু যাবে। ব্যাংকের সোনা দিয়ে শুরু করেছিলাম তা কেটেমেরে নয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ঘেটে, দশ বছরের লাখ কোটি টাকা পাচার বেটে একেবারে রিজার্ভ লোপাট পর্যন্ত নিয়ে যাবে। কী দরকার অতদূর যাওয়ার। ছা-পোষা মানুষতো, কী প্রয়োজন আদার বেপারির জাহাজের খবরে।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত