প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশাল সিটি নির্বাচনে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি থাকছে ১৫ প্লাটুন বিজিবি

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহন সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও উৎসব মূখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এরইমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করলেও ৩০ জুলাই ভোটগ্রহনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিনের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিজিবি’র সদস্যরা।

সবমিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের দিন তিন হাজারের মতো বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্তকর্তারা নিয়েজিত থাকবেন। সহকারী রিটার্রিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দিন খান জানান, নির্বাচনের দিনসহ আগে ও পরের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষে এ সংক্রান্ত নিদের্শনা আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে দেয়া হয়েছে।

সেই অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হেলাল উদ্দিন খান আরও জানান, নির্বাচনের আগে ২৮ জুলাই থেকে নির্বাচনের দিন ৩০ জুলাই এবং পরেরদিন ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সমন্বয়ে ৩০টি ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে কাজ করবে। ভোটগ্রহনের পূর্বেরদিন থেকে পরের দুইদিন পর্যন্ত নয়জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এছাড়া র‌্যাব-৮ এর ৩০টি টিম, ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্যদের ৩০টি টিম, পুলিশের ৩০টি টহল টিম, ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে কাজ করবে। এছাড়া ১২৩টি ভোট কেন্দ্রে ১২৩জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৫০জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং এক হাজার পাঁচশ’ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহন কার্যক্রমে অংশগ্রহন করবেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ১০ভাগ বেশি প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষনের আওতায় আনা হবে। ফলে দায়িত্বপালকারী সংখ্যার থেকে আরো ১৫জন প্রিজাইডিং, ৭৫জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ১৫০জন পুলিশ অফিসারকে প্রশিক্ষন দেয়া হবে।

যাদের আপদকালীন সময়ে জরুরী প্রয়োজনে কাজে লাগানো হতে পারে। হেলাল উদ্দিন খান আরও জানান, সাধারণ ভোট কেন্দ্র নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ সদস্যসহ ২২জন নিরাপত্তা কর্মী। এরমধ্যে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও পাঁচজন সদস্য। তিনজন ব্যাটলিয়ান আনসার সদস্য এবং একজন পিসি ও দুইজন এপিসিসহ সাধারণ ১২জন আনসার সদস্য।

এরমধ্যে পাঁচজন নারী ও সাতজন পুরুষ সদস্য কাজ করবেন। পিসি ও এপিসিরা অস্ত্রধারী আর বাকিদের হাতে থাকবে লাঠি। কেন্দ্রগুলো দুই ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ন ও অতিগুরুত্বপূর্ন।

সেক্ষেত্রে অতিগুরুত্বপূর্ন কেন্দ্রগুলো সাধারনের থেকে দুইজন পুলিশ সদস্য বেশি নিয়োগ দেয়া হবে। তবে গুরুত্বপূর্ন ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এখন পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার নাছির উদ্দিন মল্লিক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করার কাজ গোয়েন্দা সংস্থা করছে।

২/১ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে তালিকাসহ রির্পোট পাঠানো হবে। অপরদিকে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রে আসবাবপত্র সংকট থাকায় তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ