Skip to main content

আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের উপর হামলা কিসের ইঙ্গিত : বাংলাদেশ ন্যাপ

শিমুল মাহমুদ: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বিচারক জামিন দেয়ার পর সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঘেরাও’ করে রাখে দীর্ঘসময়, তারপর যখন তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে গাড়িতে উঠেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয় ‍উল্লেখ করে এ ঘটনার  তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। তারা  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ‌‍‍"আদালত প্রাঙ্গনে একজন সম্পাদক, আদালত কর্তৃক জামিন প্রাপ্ত মাহমুদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও রক্তাক্ত করা কিসের ইঙ্গিত বহন করে ? সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গনে একজন সচেতন নাগরিকের উপর সরকারী দলের নেতা-কর্মীদের সশস্র হামলা ও রক্তাক্ত করার মধ্য দিয়ে শাসকগোষ্ঠি কি আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিদর্শন করলেন না ? এভাবে কি একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায় আর ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ইঙ্গিত বহন করে না ? দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে যখন উন্নয়নের কথা জনগনকে শোনানো হয় তখন এই ধরনের ঘটনা কি সেই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত করে ? বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ৫০০ ধারার মানহানি মামলায় জামিন নিতে মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়ার আদালতে যান। হাজির হওয়ার পর আদালত জামিনও মঞ্জুর করেন। কিন্তু ততক্ষণে আদালত এলাকায় জমায়েত হন সরকারদলীয় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। তারা মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এই ধরনের ঘটনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার ইঙ্গিতে, কিসের কারণে ঘটানো হয়েছে তা খুব দ্রুতততম সময়ে বের করতে হবে। যে বা যারাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক না কেন আপাত দৃষ্টিতে তারা আ.লীগের প্রেমিক হলেও মনে রাখতে হবে তারাই আপনার ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। তারা বলেন, একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে জামিনপ্রাপ্ত হওয়ার পরও সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের দ্বারা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থেকে আদালত চত্বরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে গুরুতর আহত করা, আর সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরব দর্শকের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থানকে কোথায় নিয়ে গিছে এটা কি সরকার দলীয় নেতারা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। মিডিয়া জগতের একজন সিনিয়র ও খ্যাতিমান সম্পাদকের ওপর এধরনের বর্বরোচিত অক্রমণ কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। আদালত চত্বরে এই হামলা একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যত প্রজন্মকে নেতিবাচক শিক্ষা দিবে। যা কারোই কাম্য নয়, কাম্য হতে পারে না। নেতৃদ্বয় এ হামলার ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে বলেন, আমরা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় হতাশা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলেন, আমরা অনেকে মাহমুদুর রহমানের রক্ত দেখে অশ্রুসিক্ত হই, আবার অনেকেই দাঁত চিবিয়ে হাঁসি। আমরা অনেকে জাফর ইকবালের রক্ত দেখে প্রতিবাদ করি, আবার অনেকেই খুশি হই। আমরা অনেকে ব্লগারদের হত্যা করলে আনন্দ পাই,আবার অনেকে প্রতিবাদ করি। আমরা অনেকে হেফাজতকে মারলে আনন্দোৎসব করি, আবার অনেকে নীরবে অশ্রু নিপাত করি। এদেশে রাজনীতির নামে যে রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়েছে, এর শেষ কোথায়?? এর উত্তর আমাদের বা জনগণের কারো কাছেই নেই। সুন্দর সম্ভাবনার এই দেশকে ধ্বংসের দায় আমরা কেউই এড়াতে পারি না। এই বিভক্ত সমাজ, দেশ, মনন তৈরী করে আমরা কোন মৃত্যুপুরী রেখে যাচ্ছি? তারা বলেন, একটা মানুষের ভিন্ন মতামত, মূল্যবোধ, ধর্মীয় বিশ্বাস-অবিশ্বাস থাকতেই পারে। সেজন্য যুক্তির প্রয়োগ এবং আইন আদালত আছে। এরকম পাশবিক পশুবৃত্তির দেশে কেউ নিরাপদ নই। নতুন প্রজন্ম এরকম দেশ চায় না।

অন্যান্য সংবাদ