প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শেখ হাসিনা গ্রেপ্তারের সময় ছাত্রলীগকে খুঁজে পাওয়া যায়নি’

রবিন আকরাম : মাহমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করায় আজ যারা উল্লসিত, তারা একটু পেছনে ফিরে দেখার চেষ্টা করেন। বিএনপি এমপির সন্ত্রাসীরা এই কুষ্টিয়াতেই ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আজ যারা মাহমুদুর রহমানের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ করছেন, ইকবাল সোবহানের ওপর আক্রমণের সময় তাদের কেউ কেউ উল্লসিত হয়েছিলেন- অনেকে চুপ ছিলেন।

আজ যারা সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মাথা ফাটাচ্ছেন, উল্লাস করছেন- জানি তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা মাথাতেই আনবেন না। সেই সময়ের চেয়ে এখনকার আক্রমণ আরও ভয়ঙ্কর, প্রশাসনের ভূমিকা আরও নির্লিপ্ত। যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে। আলামত তাই বলে। আক্রমণকারীরা আক্রান্ত হবে, আক্রান্তরা আক্রমণকারী হবে।

আপনাদের নেত্রী যেদিন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, ছাত্রলীগের বীর পুরুষদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিবাদ আমরা করেছিলাম- লিখে এবং টেলিভিশনে, আপনারা নয়। সবাইকে আপনারা শিবির বলছেন। সাধারণ শিক্ষার্থী নুরুল- রাশেদ- ফারুকদের যেভাবে নিপীড়ন করছেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর আক্রমণও সেভাবেই করেছেন।

সকল নৈতিকতার কবর রচনা করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছেন, ছাত্রীদের নিপীড়ন করছেন। পুলিশ- প্রশাসনিক সহায়তা তুলে নিলে রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দশ মিনিটের মধ্যে দখল করে নিবে শিবির। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আপনারা এতটাই নিপীড়ন করেছেন যে, কাউকে সঙ্গে পাবেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আপনারা টিকতে পারবেন না, পুলিশি সমর্থন না পেলে। শিবিরের হাতে আপনারা মর্মান্তিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। রক্তাক্ত হয়েছেন, আহত হয়েছেন- জীবন দিয়েছেন। সেসব রক্তাক্ত ছবি, ম্যানহোলে ছাত্রলীগ কর্মীর লাশের ছবি, এখনও জীবন্ত।

আপনারা মাহমুদুর রহমানের অপরাধের বিচারের জন্যে আদালতে গেছেন। মাহমুদুর রহমানও আদালতে গেছেন। অথচ আদালতের প্রতি আপনারা শ্রদ্ধা না দেখিয়ে, সেখানে তাকে রক্তাক্ত করলেন। কী প্রমাণ করলেন, অপরাধী মাহমুদুর রহমান না আপনারা? মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকলো?

এখন আপনারা শিবিরের মত, প্রায় একই অপকর্ম করছেন। নিরীহ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিপীড়নে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করছেন। প্রকাশ্যে ছাত্রীদের কিল- ঘুষি মারছেন, ধর্ষণ করতে চাইছেন। অথচ সুযোগ ছিল সাধারন শিক্ষার্থীদের মন জয় করে শক্তি অর্জনের। রাজনৈতিক- প্রশাসনিক সমর্থনে আপনাদের হাতুড়ি- বাটালের শক্তি আরও বাড়বে। আক্রান্ত হবেন অনেকে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভয়ে আপনাদের সালাম দেয়, অন্তর থেকে ঘৃণা করে- এরিয়ে চলে।

মাহমুদুর রহমান আক্রান্ত হয়েছেন, ছাত্রলীগের যে সন্ত্রাসীরা তার ওপর আক্রমণ করেছে, তাদের বিচার দাবি করছি।

বি.দ্র: আর একটি তথ্য আবারও জানিয়ে রাখি, জঙ্গি হিজবুত তাহরীর ২০০৭ সালে যখন আমাদেরকে মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা শহরে মিছিল করছিল, মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকায় নিজে কলাম লিখে আমাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন। হিজবুত তাহরীরকে সমর্থন করেছিলেন। মাহমুদুর রহমানের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানাই তীব্র ভাষায়।

(লেখাটি গোলাম মোর্তুজার ফেসবুকে থেকে নেয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ