প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরানের নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট : শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির শহর হিসেবে হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরাণ (রহ.) ও হযরত বোরহান উদ্দিনের (রহ.) স্মৃতিবিজড়িত আধ্যাত্মিক চেতনাসঞ্চারী নগরী সিলেটের সুনাম সর্বজনবিদিত। এই পুণ্যভূমিতে কখনই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি।

অথচ সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ নগরেই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী ক্যাম্প। এতে ভস্মীভূত হয়েছে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী ব্যানার, প্লাস্টিকে মোড়ানো পোস্টার, লিফলেট, পর্দাসহ জরুরি কাগজপত্র।

সিলেটের সাবেক প্যানেল মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, গত শনিবার রাত ৩টার দিকে শহরতলির টুলটিকর এলাকায় বুরহান উদ্দিন-গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও নগর শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। তারা দ্রুত দুস্কৃতকারীদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছেন।

সঙ্গে আলাপকালে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এ ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের প্রভাব রয়েছে। তবে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার দেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা হতবাক, বিস্মিত ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে অশান্তি ছড়াতে উস্কানি দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। আর সিলেটবাসী নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, টুলটিকর এলাকায় তার প্রতিপক্ষের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার ঘটনা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। সিলেটের রাজনীতিতে এমন ধরনের ঘটনা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন। বলেছেন, খুব কম সময়ের মধ্যেই দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সিলেটে এখন অশান্তি বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী। সুযোগ পেলেই তারা প্রতিপক্ষের পোস্টার ছিঁড়ছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পরস্পরের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়াচ্ছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে কটূক্তি করছে। কিছু নেতাকর্মীর অগণতান্ত্রিক মানসিকতায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টুলটিকর এলাকায় বুরহান উদ্দিন-গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের আগে গত শুক্রবার প্রকাশ্যে নূরানি আবাসিক এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা ও তাণ্ডব চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এমএ হান্নান শুক্রবারের ঘটনার জন্য ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের দায়ী করেছেন।

এ ছাড়া গত কয়েক দিনে টিলাগড়, দর্শন দেউড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি মাইক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে মুখোমুখি হলেই তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিএনপির কর্মীরাও জামায়াত প্রার্থী এহসানুল মাহফুজ জুবায়ের ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খানের কর্মী-সমর্থকদের বিদ্রূপ করছেন।

এসব ঘটনাকে সিলেটের রাজনীতির জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, এসব কিছু দেখার এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আর জামায়াত-শিবির কিংবা যে-ই জড়িত হোক না কেন, তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী জানিয়েছেন, জামায়াত বা যে কারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সহিংসতার মামলায় জড়িত জামায়াতের একজন চিহ্নিত নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মেনে নিতে পারছে না। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে অশুভ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ