প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌকায় ভোট চাইছেন বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীও!

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়ছেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলো তাঁর পক্ষে মাঠে নেই। নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ ওয়ার্ডে নেই ধানের শীষের পোস্টার। প্রচারে পিছিয়ে থাকা বুলবুলের সামনে এখন নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নিজ দলের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। কাউন্সিলর পদে বিএনপির অনেক প্রার্থী এরই মধ্যে সমঝোতা করে ফেলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতেও শুরু করেছেন। অন্যরা নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া থেকে বিরত থাকছেন।

নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরিখরবোনা এলাকায় গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভার দলের মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে ভোট চান খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ওই ওয়ার্ডের বিএনপির নেতা ও বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান লিটন। তিনি এবারও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সোবহান লিটন বলেন, ‘এলাকাবাসী সেখানে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিল, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এখানে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান বড় কথা নয়।’

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ওই দিন রাতে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মেয়র পদে দলটির প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি সেখানে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় সেখানে উপস্থিত হন কাউন্সিলর পদে বিএনপির প্রার্থী মনির হোসেন। ওই সময় খায়রুজ্জামান লিটনের হাত থেকে নৌকা প্রতীকের লিফলেট গ্রহণ করে মনির লিটনকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মনির হোসেন তখন বলেন, ‘আমি দল করি বিএনপি, কিন্তু রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে লিটন ভাইকে ভোট দিব, আমার পরিবারের সবাইও লিটন ভাইকে ভোট দেবে।’

জানা যায়, ১৯৯২ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে জড়িত মনির। বিএনপির সমর্থন নিয়েই গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মহানগর বিএনপিরও সদস্য।

নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, ‘১৮ নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সবাই আমাকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। তাই জনগণের উন্নয়নের কথা ভাবছি, সে জন্য লিটন ভাইকে ভোট দিব। ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে হবে। এ ছাড়া যোগ্যতার একটি বিষয় আছে। লিটন ভাই যোগ্য মানুষ, তিনি রাজশাহীর উন্নয়ন করতে পারবেন।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ২৩ জন কাউন্সিলর বিএনপি-জামায়াতপন্থী। বিএনপির কাউন্সিলরদের মধ্যে আছেন প্যানেল মেয়র-১ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ারুল আমিন আযব, ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসুর রহমান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাহবুব সাইদ টুকু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিন টুনু, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোহরাব হোসেন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বাক্কার কিনু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন দিলদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রবিউল আলম মিলু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ টুটুল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সোবহান লিটন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল আহম্মেদ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনির হোসেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান টিটো, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুস্তাক হোসেন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তরিকুল আলম পল্টু, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদ মোল্লা, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফুল হাসান বাচ্চু, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহান আলী। বিএনপির কাউন্সিলরদের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তরিকুল আলম পল্টু গত বছর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হলেন মতিহার থানা জামায়াতের আমির আবদুস সামাদ।

বিএনপি-জামায়াতের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে দুজন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরো অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া থেকে বিরত আছেন। বিএনপির অন্য প্রার্থীরাও ক্ষমতাসীন দলের নানা চাপে মেয়র পদে নিজদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন না।

৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে কোনো কাউন্সিলর প্রার্থীই আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কারো পক্ষে ভোট চাইছেন না। তারা নিজেদের ভোট নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টায়, নিজেদের জয় নিশ্চিত করার আশায় তাঁরা মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন না।’

৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী খোকন বলেন, ‘বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রকাশ্যে তেমন কোনো প্রচার চালাচ্ছি না। তবে নীরবে যতটা পারা যায় বিএনপির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আর বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার পেছনে তাঁরা সময় দিচ্ছেন না। কিন্তু আগের নির্বাচনগুলোতে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও মেয়র পদপ্রার্থীর জন্য ভোট চাইতেন।’

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া বিএনপির একাধিক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকটা গোপনে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন ওয়ার্ড বিএনপির নেতারা। কেউ আবার দলীয় কোন্দলের কারণে মেয়রের পক্ষে মাঠে নামছেন না। আবার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র থাকাকালীন তাঁর কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়েও অনেকে বুলবুলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনী প্রচারের মাঠে ওয়ার্ড পর্যায়ে অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন বুলবুল। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বুলবুল যখন কোনো ওয়ার্ডে গণসংযোগে যাচ্ছেন, কেবল সেই ওয়ার্ডে তাঁর পাশে দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা মিলছে। গণসংযোগ শেষ হওয়ার পর ওই ওয়ার্ডে আর বুলবুলের পক্ষে কোনো নেতাকর্মীর প্রচার চোখে পড়ে না।-কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ