প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ কোটি টাকা বেশি দিয়ে মেশিন কিনছে বিএসএমএমইউ

ডেস্ক রিপোর্ট:  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন কেনা হবে। এ জন্য গত বছরের জুন মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। শর্ত পূরণ করে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমমানের মেশিন প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন কিনতে টেন্ডার আহ্বান করে বিএসএমএমইউ। টেন্ডার মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অসন্তোস ও জটিলতার সৃষ্টি হয়।

ক্রয় সংক্রান্ত সচ্ছতা আনয়নে এবং জটিলতা নিরসনে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ২০১৭ সালের জুলাই মাসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি পূর্বের টেন্ডার পক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর আবারও টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেন্ডার সংক্রান্ত কারিগরি উপ-কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘এত কিছুর পরও সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছুই হয়নি। এখনও বেশি দামে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে তৎপর ক্রয় কমিটি।’

তিনি বলেন, ‘মেশিন কেনা হবে রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের জন্য। কিন্তু উপকমিটির সভাপতি এবং সদস্যসচিব দুজনেই মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘ক্রয় কমিটি এখনো তাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। সব কাজ সম্পন্ন করে তার কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন ক্রয়ের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।’

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত কারীগরী উপকমিটির তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশি দামে ওই নির্দিষ্ট কোম্পানির মেশিন কিনতে সকল সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করা হয়।

সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন না, একটি দাফতরিক পত্র তৈরি করে তাদের পাঠানো হয়, কিন্তু একজন সদস্য সে দাফতরিক পত্র প্রত্যাখান করেন। এমনকি দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী সকল কোম্পানির মেশিন সরেজমিন পরিদর্শনের কথা উল্লেখ থাকলেও তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কমিটির পক্ষ থেকে কোনো পরিদর্শনে যাওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির প্রধান উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহান আখতার রহমান জানান, টাকার বিষয়টি প্রধান নয়, মেশিনের স্পেসিফিকেশন আগে দেখতে হবে। মেশিন ক্রয়ের ক্ষেত্রে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলো দামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগে আমাদের চাহিদা পূরণ হতে হবে, তারপর দাম। আমরা চাচ্ছি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি মেশিন কিনতে। রোগীদের চিকিৎসায় সব সুবিধা নিশ্চিত হয় এমন মেশিন আগে যাচাই করা হবে, তারপর দামের বিষয়ে ভাবা যাবে। সারাবাংলা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ