প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকবিরোধী যুদ্ধে জিততেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে তখন জঙ্গিবাদী অপতৎপরতা শুরু হয়। সব আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী মিলে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করেছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলের ন্যায় মাদককেও নির্মূল করব। সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। র‌্যাব কর্তৃক নির্মিত মাদকবিরোধী বিজ্ঞাপন (টিভিসি) ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ প্রচারণা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। নইলে আমরা পথ হারাব। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ; এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। এই যুদ্ধ সেদিন থামবে যেদিন আমরা দেখবো সেই বাংলাদেশকে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখছি। নেশাখোরেরা ভুলেই গেছে ফেনসিডিল নামে কিছু আছে। এখন নতুন আসছে ইয়াবা। এই ইয়াবায় সব হারাচ্ছে তরুণারা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেভাবে জঙ্গি দমন করেছি, ঠিক সেভাবেই আমরা মাদক নির্মূল করেই ছাড়বো, মাদক নির্মূলে কারো সঙ্গে আপোষ নেই।

মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ছিল ঠুটো জগন্নাথ। সেখান থেকে আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। জনবল ও শক্তি বাড়িয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে মাদকসেবীদের নিরাময় ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেখানেই অবৈধ ব্যবসা সেখানেই অবৈধ অর্থ-অস্ত্র। সুতরাং মাদক আগে নির্মূল জরুরি। সারা পৃথিবীতে দেখবেন মাদক নির্মূলে সর্বাত্মক যুদ্ধেই নামতে হয়েছে। কলম্বিয়া আর সেই কলম্বিয়া নেই। আমরাও সেই জায়গাটিতেই যাবো। আমরা যেমন করে জঙ্গিবাদ দমন করেছি তেমনিভাবে মাদকও দমন করা হবে। জঙ্গিবাদের ন্যায় মাদকবিরোধী প্রচারণা দরকার। বাংলাদেশকে আমরা সেই জায়গাতেই নিয়ে যেতে চাই, যেই স্থানটিই সবাই আমরা স্বপ্ন দেখি।

তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের অনেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। তবে আমরা কাউকে মারছি না। অনেক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গেলেই চ্যালেঞ্জ করেন, অস্ত্র ব্যবহার গুলি চালান, যে কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হচ্ছে।

কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৩৭ হাজার হলেও বর্তমানে ৯০ হাজার পার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজারই মাদক সংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেফতারের পর কারাগারে রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাদক নির্মূলের ঘোষণা এসেছে আমরা সেটা সর্বাত্মকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি। এরইমধ্যে আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি, মাদক নির্মূলের কাজটা শুরু হয় উচিত সমাজ থেকে।

তিনি আরো বলেন, একটি পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য একজন মাদকসেবীই যথেষ্ট। অনেক বাবা-মা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলেকে জেলে দিন, যেন ৫/৬ বছর জেল থেকে বের হতে না পারে। তাই আমি আহŸান করব মাদক নির্মূলে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য।

আইজিপি বলেন, শুধু অভিযান নয়, মাদকবিরোধী প্রচারণা আরো বেশি দরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর প্রতিষ্ঠার আগে পুলিশ এককভাবে মাদকবিরোধী ভ‚মিকা পালন করেছে। মাদককে শুধুমাত্র পুলিশি সমস্যা ধরে নিলে চলবে না। এটা সামাজিক সমস্যা, ব্যাধি। মাদকবিরোধী ভ‚মিকায় সব শ্রেণির পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান অব্যাহত রাখেনি; মাদক নির্মূলে বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণাও চালাচ্ছি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ