প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনন্তকাল অপেক্ষায় বসে থাকব না : ইউরোপকে ইরান

রাশিদ রিয়াজ : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য তেহরান অনন্তকাল পযন্ত ইউরোপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে থাকবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একদল কর্মকর্তা, বিদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। জারিফ বলেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ চোখে পড়ছে না। জারিফ তার বক্তব্যে গতকাল বিদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সদের সমাবেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দেয়া বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইউরোপের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চললেও তাদের প্যাকেজ প্রস্তাবের অপেক্ষায় বসে থাকা আমাদের উচিত হবে না বরং দেশের ভেতরে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান একটি বৃহৎ ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী একটি দেশ। এ ছাড়া, এ অঞ্চলসহ বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের রয়েছে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক। পাশ্চাত্যের পক্ষে ইরানের এ বাস্তবতা উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্র কেবল বিদ্বেষ বশত: ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে চাপে ফেলার মার্কিন প্রচেষ্টা কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে এবং তাদেরকে এটা বুঝিয়ে দিতে হবে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিজের সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হাসান লাসজেরদি বলেছেন, ইউরোপ একদিকে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার কথা বলছে অন্যদিকে মার্কিন চাপের কারণে ইরানের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা ঠিক করতে পারছে না। ইরানের যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফুয়াদ ইযাদি ইউরোপের প্যাকেজ প্রাস্তাবের ব্যাপারে বলেছেন, ইউরোপ সময় ক্ষেপণের পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা বহাল রাখার চেষ্টা করছে। তিনি প্যাকেজ প্রস্তাবের ছয় নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এতে ইরানে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর উপস্থিতির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি গত কয়েক মাসে ইউরোপের অনেক কোম্পানি ইরান থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে আবার অনেক কোম্পানি ইরান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ইউরো নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আগামী আগস্ট থেকে এবং দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা নভেম্বর থেকে বাস্তবায়ন শুরু করবে। আর আমরাও দেখতে চাই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়। জারিফ বলেন, ইউরোপের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরাও আমাদের অবস্থান ঠিক করব।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘের অনুমোদিত পরমাণু সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে স্বেচ্ছাচারিতা দেখাচ্ছে তা মেনে নেয়া হলে বিশ্বে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে সময় ক্ষেপণের পরিণতির বিষয়ে ইউরোপকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পার্সটুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত