প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্প
সেপ্টেম্বরে রাজউকের ৩ হাজার ৬’শ কোটি টাকা প্রকল্পের উদ্বোধন

শাকিল আহমেদ: আগামী সেপ্টেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্প। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে চলছে রং করা ও ধুলাবালু পরিস্কারসহ শেষদিকের প্রস্তুতি। আবাসন শিল্পে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় এটিই প্রথম সর্ববৃহৎ ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্প।

রাজধানী ঢাকা বর্তমানে একটি জনবহুল নগরী। প্রয়োজনের তুলনায় এ শহরে বাসযোগ্য যায়গা অপ্রতুল। ফলে দিনের পর দিন ঢাকা মহানগরী ঘনবসতিপূর্ণ, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা হয়ে পড়েছে, হারাচ্ছে এর সোন্দর্য্য। আর এর সবকিছুই হচ্ছে পরিকল্পিত নগরায়নের অভাবে। তাই আবাসন সংকটের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রাজউক।

এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ৩য় পর্ব প্রকল্পের ১৮ নং সেক্টরে ‘এ, বি ও ‘সি, তিনটি ব্লকে প্রায় ২১৪ একর জমিতে ২৪০টি ১৬ তলা ভবনে ২০ হাজার ১৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে ২০১০ সালের ২১ এপ্রিল প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৯ হাজার ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিলো ২০১১ নভেম্বর থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত। ২০১৬ সালের ২৯ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ এর জুন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরবর্তিতে ২০১৭ এর ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পের ‘সি, ব্লকে প্রস্তাবিত নীট ১০৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটের পরিবর্তে ৮৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মানের শর্তে এবং সে হিসাবে প্রাক্কালিত ব্যয়ে নভেম্বর ২০১১ সাল হতে ডিসেম্বর ২০২০ সাল মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি অনুমদিত হয়।

সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ি ‘এ, ব্লকে ৯৫.৪৪ একর জমিতে ১৬ তলা করে ৭৯ টি ভবন নির্মান করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনের প্রতি ফ্লোরে ৬টি করে ৮৪ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এতে মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা দাড়ায় ৬ হাজার ৬শ ৩৬টি।
প্রকল্পের পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথম পর্যায় আমরা এ ব্লকের ৭৯ ভবনের কাজ শেষ করেছি। বি ও সি ব্লকের কাজ করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে। এ ব্লকের উদ্ধোধনের জন্য সময় চেয়ে গত সপ্তাহে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করি সেপ্টেম্বরের ২য় সপ্তাহে আমরা এর উদ্ধোধন করতে পারবো।

প্রকল্পের অভ্যন্তরিণ সুবিধা: এ ব্লকে প্রায় ৫২ কাঠা জমির উপর এবং ২০.৬০০ বর্গফুট এরিয়া নিয়ে ৫ তলা মসজিদ নির্মান করা হবে। যেখানে ৭ হাজার লোক একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবে। ২ একর জমির উপর ১০ তলা বিশিষ্ঠ ভবন নির্মান করা হবে। যেখানে ১৬৫০০ বর্গফুটের ২টি কমিউনিটি সেন্টার থাকবে এবং নিচ তলায় প্রায় ৯২০০ বর্গফুটের ২টি সুপার সপ ও ২৫টি বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান থাকবে। এছাড়াও একটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে।
ভবনের অভ্যান্তরিন সুবিধার মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি ভবনে একটি বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, একটি সিড়ি, ২টি অগ্নিনির্বাপন সিড়ি। ২০ জন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি লিফট, ২৫০ কেভিএ জেনারেটর ও ৮৫০ কেভিএ সাব স্টেশন স্থাপন করা হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ওয়াশি ও গার্ডেনিং এর কাজে ব্যবহারের ব্যবস্থা ও পিএবিএক্স ইন্টারকম সিস্টেম, সিসিটিভি ও ফায়ার হাইড্রেন্ট সিসেটম। এ ছাড়াও , প্রতিটি ফ্লাটে রয়েছে ৩ টি বেড রুম, লিভিংরুম,ডাইনিং রুম,ফ্যামিলি রুম,৪টি বারান্দা, ৪টি টয়লেট ও কিচেন।

১ম ও ২য় পর্যায়ে ৪ হাজার ৯শ ৫৪টি ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৩৫০০ টাকা দরে এবং পরবর্তিতে ৬৬৮টি ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৪ হাজার ৮শ টাকা দরে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।এর মধ্যে ৮৩৭ জনের ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন ১ হাজার ১৪ ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাকি রয়েছে। যা বরাদ্দের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ