প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিরোজপুরে দাফনের দু’মাস পর কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন

খেলাফত হোসেন খসরু, পিরোজপুর : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামে সায়েম নামের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সের এক শিশুর লাশ দু’মাস ছয়দিন পর রোববার কবর থেকে উত্তোলন করেছেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার শাহিন আক্তার সুমী। এসময় ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রঞ্জন কুমার, ভান্ডারিয়া থানার ওসি মোঃ শাহাবুদ্দিন ও পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ইন্সেপেক্টর জাফর উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি সূত্রে জানাযায়, শিশু সায়েমকে তার চাচা আইয়ুব আলী, চাচাতো ভাই আমীর হোসেন, চাচি রাবেয়া, সেফালি বেগম, সোহাগ ও সুমন গত মে মাসের ১৫ তারিখ মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে সায়েমকে হত্যা করে খালের পানিতে ফেলে দেয়। হত্যার অভিযোগ এনে নিহত সায়েমের মা মোসাম্মৎ হোসেনেয়ারা বেগম বাদি হয়ে গত ২০ জুন পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

ভান্ডারিয়ায় গাজীপুর গ্রামের দিন মজুর মোঃ শাহেব আলী হাওলাদারের স্ত্রী মোসাম্মৎ হোসেনেয়ারা বেগম মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেন বিবাদিরা তার স্বামীর ভাই, ভাইয়ের পুত্র, পৌত্র, স্ত্রী এবং পুত্র বধু। তাদের সাথে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তারা শত্রুতা মিটাতে গত ১৫ মে মঙ্গলবার তাদের অনুপস্থিতিতে সায়েমকে নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে প্রমাণের জন্য খালে ফেলে দেয়। বাড়িতে এসে নিহত সায়েমের মা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে মামলার ২নং আসামি মোঃ সুমন (২০) মৃতাবস্থায় সায়েমকে তার মায়ের কাছে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর সায়েমের মা বাবার কথা উপেক্ষা করে স্থানীয় মাতব্বরগণ তাকে তরিঘরি করে দাফন দেয় বলে বাদিনী দাবী করছেন। মামলায় তিনি আরো উল্লেখ করেন থানায় অভিযোগ দিতে আসার পর ভান্ডারিয়া থানার ওসি মামলা নিতে অস্বীকার করেন।

তবে এ বিষয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ কথা সত্যি নয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে রোববার সকালে সায়েমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত