প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে নেত্রকোণা জেলা জুড়ে হিন্দু নির্যাতন

দেবব্রত দত্ত : প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে নেত্রকোণা জেলা জুড়ে হিন্দু নির্যাতন। দেখার কেউ নেই; বিচারের বাণী নির্ভৃতে কেঁদে বেড়ায়। দুর্গাপুর পৌরসভা শ্মশানঘাটের রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ন-আহবায়ক ও আদিবাসী নেতা স্বপন হাজং এর উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা করেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কামাল পাশা ও তাঁর দল বল। ঘটনায় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ কি ব্যবস্থা নেবেন বা কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন; নাকি নিন্দা প্রকাশ করেই দায় সেরেছেন।

এদিকে জেলা সদরে পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় ২টি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালিয়ে মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর করা হয়েছে। দলীয় কোন্দলের জেরে ‘দলের প্রতিপক্ষ’ নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সত্যজিৎ দাস সৈকতকে পৌরসভার নাগড়া এলাকায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশে ঈদগাহ মাঠে কুপিয়ে জখম করা হয়।

নেত্রকোণা আওয়ামী লীগের বিরোধী গ্রুপের ইফতারে যাওয়ার অপরাধে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ারেছাত হোসেন বেলালের কর্মীরা পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের দলীয় কোন্দলে উপ-বিভাগীয় সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাসের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দুয়া উপজেলা জয়কা-সাতাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র দাসের কাছে ৫০ হাজার টাকার চাঁদা দাবি; অতঃপর হামলা। উক্ত ঘটনাগুলি একের পর এক ঘটছে। কোন বিচার নেই। এতে নেত্রকোণা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভয়ে দিন-রাত কাটিয়ে যাচ্ছেন। নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছবি বিশ্বাস হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েও তিনি হিন্দুদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান না।

নেত্রকোণা-২ আসনে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যাওয়া জেলা পরিষদের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় তিনিও হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েও হিন্দুদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান না। নেত্রকোণা-৩ আসনে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে যাওয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল তারাও উক্ত ঘটনাগুলিতে একদম নিরব।

একটি এলাকায় হিন্দু সংসদ সদস্য থাকা মানে ওই এলাকার হিন্দুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাবোধ করা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যে এলাকায় হিন্দু সংসদ সদস্য আছে ওই এলাকাতেই হিন্দুরা বেশি নির্যাতনের শিকারে পরিণত হন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এবং আমার দল কোন ভাবেই এই সব নিন্দনীয় ঘটনার তীব্র পতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরীর আলাপ করলে তিনি আমাদের অর্থনীতি পত্রিকাকে জানান, আমাকে কাছে কেউ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাইলে অবশ্যই দেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ