প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনিয়মের কারণে বিমান ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রাহক সেবা (ভিডিও)

হ্যাপী আক্তার : একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠতা না মেনেই নিজের ইচ্ছেমত ফ্লাইটে দায়িত্ব বণ্টন করছেন। তাদের সেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মের কারণে গোটা বিমানের ব্যবস্থাপনাই এখন প্রশ্নের মুখে। ফলে অন্যস্থায়ী ক্রুরা ফ্লাইটে মনোযোগ হারাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রাহক সেবা। দিন শেষে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমান, সাথে পড়ছে ভাবমূর্তি সংকটে। মূলত দু’জন সুবিধাভোগীর জন্যই এত অনিয়ম বলে অভিযোগ উঠেছে।

জুনিয়র পার্সার পদে অতিরিক্ত জনবল থাকলেও ভলেন্টারি রিটায়ারমেন্ট স্কিম-ভিআরএস সুবিধা নিয়ে অবসরে যাওয়ার পরেও ৯০ দিনের চুক্তিতে পাঁচজনকে নিয়োগ দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালের সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পত্রে শর্ত ছিল ছুটি, টিকিটিং, বেতন বৃদ্ধি, সিনিয়রিটিসহ অন্যান্য সুবিধা দাবি করতে পারবেন না তারা।

বিতর্কিত সেই নিয়োগের পরপরই জ্যেষ্ঠতার আবেদন করেন তিন জন। প্রেক্ষিতে সকল বিভাগ থেকে মতামত আসে সি-নম্বরধারীরা সিনিয়রিটি এবং পদোন্নতি পেতে পারেন না। একই সাথে ১৫৭ জন পার্সারের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয় যেখানে ১৫২ স্থায়ী পার্সারকে জ্যৈষ্ঠতা দেওয়া হয়।

তারপরই ফাহমিদা পারভনি জয়া, এবং ফারহানা পারভিন কোয়েল মামলা করেন বিমানের বিরুদ্ধে। মামলা চলাকালেও একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সহযোগীতায় ফ্লাইটের ক্রু পজিশনেও সিনিয়রের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন ২০১২ সাল থেকে এখন ২০১৮ পযর্ন্ত। অসন্তোষ তৈরি হয় স্থায়ী এবং সিনিয়র ক্রদের মধ্যে। সব শেষ আউট অব কোর্ট সেটেলমেন্টে চলে আসে বিমান।

ফোনালাপে ফাহমিদা পারভনি জয়া বলেছেন, আমাকে জাজমেন্ট দেওয়া হয়েছিলো আরও বড় কিছু দেওয়ার জন্য। বিমান সেটাও আমাকে দেয়নি। যাদের সিনিয়র হলাম তাদের প্রমোশনটাই অবৈধ। ভ্যাকেন্সিই ছিলো না এরা যখন প্রমোশন নিয়েছে ১০৭ জন। আগে ওইটা নিয়ে রিপোর্ট করেন তারপর আমারটায় আসেন। কোয়েল বলেছেন, আমাকে কোর্ট থেকে আয় দিয়েছে, সে রায় অনুযায়ী ম্যানেজার আমাকে দেয়নি। বরং আমার নিচের পোস্টে জয়েন করেছে। আমি চাকরি করে খাচ্ছি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাস্টমার সার্ভিসের পরিচালক আলী আহসান বাবু বলেছেন, বিরাট একটা সেকশন আছে জেনারেল ম্যানেজার আছে এটা ডিল করার জন্য। যে তথ্য গুলো আপনি চাচ্ছেন তা এক ডিপার্টমেন্টের না। দুই তিনটা ডিপার্টমেন্টের তথ্য এখানে একসাথে দিতে হবে। সেগুলো কালেক্ট করে দিয়ে দিব।

এই ধারাবাহিকতায় সিনিয়রিটি এবং চাকরী স্থায়ীকরণের এখন পর্যন্ত ১৬টি মামলা রায়ের অপেক্ষায় আছে। আরও কয়েকশ কর্মচারী মামলা করার অপেক্ষায় আছেন। যোগাযোগ করা হলে বিমান কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি। নজরে আনলে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব জানান, অন্যায় কিছু হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাচিব মহিবুল হক বলেছেন, আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই। শুনলাম দুজন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যদি কোনো আইন বিধি ভঙ্গ করে তাহলে সে বিমানের বোর্ড সভায় তুলে ধরা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র : ডিবিসি নিউজ

https://www.youtube.com/watch?v=64tvT0m2UPQ&feature=youtu.be

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত