প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধন্যবাদ হে পরীক্ষামন্ত্রী : পড়ালেখা তুমি কোথায়?

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে: সবকিছু রাজনীতি। এমনকি পরীক্ষা ও তার ফলাফলও রাজনীতি। তাই যদি না হবে তো আমাদের শিক্ষামন্ত্রী কেন বলবেন; আমরা নম্বর বাড়াতে বলিনি, কমাতেও বলিনি। এ প্রশ্ন আসছে কেন? আগেও লিখেছি, আমরাও বাংলাদেশের ছাত্র । আমাদের সময়ও এসব নিয়ে আবেগ-উদ্বেগ, টেনশন কম কিছু ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সময়টা ছিল জটিল। সামরিক শাসন দরিদ্র দেশ কথা বলা না বলার এখতিয়ারহীন সমাজে পাস করেছি আমরা। কিন্তু এত জটিলতা দেখিনি। জটিলতা এই, ফলাফল বের হতে না হতেই মন্ত্রী হাজির মিডিয়ায়। কেন? এ ফলাফল দেশের কোনো মেধাসম্পন্ন মানুষ ঘোষণা করতে পারেন না? এ ফলাফল তো গতবারের সেরা ছাত্র বা ছাত্রীও ঘোষণা করতে পারে। তাতে তো বরং সবাই জানত সমাজ বা দেশ মেধাকে সম্মান করে। সম্মান দিতে জানে। এখন দেখছি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেও সামিল করা হয়। তার কত কাজ। তিনি কত ব্যস্ত মানুষ। তারপরও তাকেই আনতে হয় আমাদের।

বলছিলাম পড়ালেখার কথা। সে জায়গাটা কোথায়, কোন তলানিতে তা নিবে মাথাব্যথা নেই কারও। দুই ধরণের ব্যবস্থা বা দুই ধরণের ছাত্রছাত্রী দেখছি আমরা। এক ক্লাশ খুব হাই আর এক ক্লাশ নাই নাই টাইপ। যে ক্লাশ টাকাপয়সা খরচা করে ভালো স্কুলে পড়ে বা ও লেভেল, এ লেবেলে পড়ালেখা করে তারা সব হাই-ফাই। বাকিরা ভালো করে বাংলাও বলতে পারে না। অথচ জিপিএ-৫ নিয়ে কত গর্ব আর কত কাহিনী। কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের দোষারোপ করা বৃথা। তারা অভিভাবক পরিবার আর সমাজের হাতের পুতুল। তাদের জীবন ও ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই আসলে। তারা আমাদের ইচ্ছেপূরণ করছে মাত্র।

মূলত গলিত সমাজে এখন সবকিছুই পণ্য। পড়ালেখাও তাই। ছাত্রছাত্রীদের জিপিএ-৫ দিয়ে পরিমাপের মতো যারা পড়ায় তাদের জন্য একটা পরিমাপ যন্ত্র বা নিক্তি থাকলে বোঝা যেত তারা কতটা যোগ্য। অথচ তারা কোনো ব্যর্থতার দায় নেন না। অন্যদিকে আমাদের সন্তানদের কেউ কেউ এই ব্যর্থতা নিতে না পারার কারণে আত্ম হননের মতো বাজে পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। বারবার বলার পরও এই প্রবণতা কমেনি। এটা এখন সামাজিক রোগ। ক্রিকেট-ফুটবল-পড়ালেখা সব বিষয়ে এত অভিমান বা এত আত্মহত্যার কারণ কী আসলে? সবাই জানি এর নাম সামাজিক ও পারিবারিক চাপ। কিন্তু কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামায় না।

আরও একবার সে বাস্তবতার মুখোমুখি তারুণ্য ও অভিভাবকদের বলি, জীবন অনেক বড়। অনেক বিশাল। তাকে এত ছোট জায়গায় নামিয়ে আনার কারণ নেই। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনিও পারেন বটে। কাজের বেলায় যাই হোক ফলাফলের বেলায় আপনার ব্যস্ততা আর ভাষণ শুনে-বুঝি আমাদের পড়ালেখা কোথায় কোন জায়গায় আছে। ধন্যবাদ আপনাকে, ধন্যবাদ রাজনীতিকে। সবকিছু এভাবে উদরস্থ করার জন্য। আমরা কবে মেধাবী ও স্বচ্ছ জাতি হবো?
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ