প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেট সিটি নির্বাচনে নিরাপত্তা ছক প্রস্তুত

ডেস্ক রিপোর্ট : সময় যত গড়াচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ততই বাড়ছে শঙ্কা ও উত্তাপ। কেননা, এবারই প্রথম সিলেটে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনের পরামর্শে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করেছে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা আগামী ২৮ জুলাই রাত ১২টায় শেষ হবে। আর ৩০ জুলাই ভোটাররা তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদেরকে। সিলেট সিটি নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, র্যা ব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া, প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন কিনা, তা দেখভাল করার জন্য সিলেট মহানগরীতে থাকবেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটের আগের দিন থেকে শুরু করে নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ২২ জন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এই হিসাব অনুযায়ী সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ২৯৪৮ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরের প্রাপ্ত তথ্য ও পরামর্শের ভিত্তিতে ঢেলে সাজানো হয়েছে ভোট কেন্দ্রসহ মহানগরী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি অফিস। এবারের নির্বাচনে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় কত জন পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে সে হিসাবও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। মেট্রোপলিটন্ এলাকায় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে ১৪ প্লাটুন বিজিবি। এরমধ্যে দুটি সাধারণ ওয়ার্ড মিলে এক প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে একটি করে মোবাইল ফোর্স, তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত একেকটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে থাকবে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতিটি ওয়ার্ডে র্যা বের একটি টিম থাকবে।
এছাড়া, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সাত জন পুলিশ অস্ত্রসহ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এদের মধ্যে একজন এসআই, একজন এএসআই, ও পাঁচ জন পুলিশ কনস্টেবল। এছাড়া, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য দলের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবে লাঠিসহ ১২ জন আনসার সদস্য, এরমধ্যে মহিলা পাঁচ জন ও পুরুষ সাত জন। আরও থাকবে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন পিসি, আরেকজন এপিসি ও একজন ব্যাটেলিয়ন আনসার। ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আনসারের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ছক করা চূড়ান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা।তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পন্ন হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সিলেট মহানগরীতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে ১৪ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া, থাকবে র্যাগব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত নিরাপত্তা বাহিনী। কোনও প্রার্থী কিংবা তার সমর্থকরা যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন, সেজন্য মাঠে থাকবে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।’

২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন। সূত্র জানায়,হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ হাজার ৬৮৬ জন ভোটার বেড়েছে। বর্তমানে মোট ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার একলাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার একলাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। ভোটার বাড়ায় এবারের সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে সাতটি। ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত তৃতীয় সিটি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। তখন পুরুষ ভোটার ছিল একলাখ ৫২ হাজার ১৮১ এবং নারী ভোটার ছিল একলাখ ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ছিল দুই লাখ ৫৬ হাজার ৪০৮ জন। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে সিলেট মহানগরী এলাকায় ভোটার কম থাকায় ভোটকেন্দ্র ছিল ১২৭টি। এবার ভোটকেন্দ্র থাকবে ১৩৪টি। গত নির্বাচনে ভোটকক্ষ ৮৯৬টি থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯২৭টি। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত