প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইসিটির শিক্ষক কম টাকা বেতনে আসবেন কেন কলেজে ?

রাশেদা কে চৌধুরী : প্রথম কথা হলো, পাসের হার সর্বনিম্ন এটা একটা বিপর্যয় বলে আমি কখনো মানতে রাজি না। এটা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় থেকে উঠে আসছে। আগে অস্বাভাবিকভাবে, নানাভাবে নাম্বার দেওয়া হতো। এক বছর ৭০%, আরেক বছর ৭৫% পরের বছর ৮০%। কোন পরিবর্তন ছিলো না, হিসাব কিতাব ছিলো না। ঐ জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটেছে। পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও উত্তর পত্র মূল্যায়ণ সংস্কার হয়েছে। কাজেই স্থিতিশীল একটা জায়গায় আছে। কিন্তু১১১১এখন আমাদের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ, এভাবেই তো পরীক্ষা পদ্ধতি চলবে। তাহলে কী আগামীতেও এমন রেজাল্ট হবে ? এখন বিশ্লেষণে যেটা বেড়িয়ে আসছে যে, রেজাল্ট খারাপ করেছে ইংলিশে এবং আইসিটিতে বেশি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দক্ষ শিক্ষক নেই, শিক্ষক স্বল্পতা দুটোই। বিশেষ করে মফস্বলে এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়, আমি এখন সিলেটে আছি। এখানকার উদাহরণ দেই। সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজ, সেখানে ৯ টা বিষয়েরই কোন শিক্ষক নেই। তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের দায়ী কীভাবে করবো ? তাদের বলে কোন লাভ নেই যারা ফেল করেছে। আইসিটির শিক্ষক নিয়োগের জন্য পাবলিকলি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন ৩৭৭ জনের নাকি ২৫০ জনের জন্য কিন্তু মাত্র ৭৭ জন আবেদন করেছে। এটাকে কী বলা যায় ? তার মানে দাঁড়ালো যে, এসব পজিশনে দক্ষ শিক্ষক বিশেষ করে ঢাকার বাইরে মানে নগরীর বাইরে যদি তাদেরকে আমাদের নিয়োগ দিতে এবং তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য আলাদা সুবিধা দিতে হবে। আইসিটির শিক্ষক কম টাকার বেতনে আসবেন কেন কলেজে ? উনি অন্যত্র ভালো চাকরি পেয়ে যাবেন। তাহলে মাত্র ৭৭ জন আবেদন করেছে আর ২৫০ এর মধ্যে বাকিগুলো খালি। সেগুলোর জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে বলেছিলাম, শিক্ষকদের জন্য বেতন বাড়ানো দরকার। সকল শিক্ষক তো আর একরকম না। এক পদেরও না আর এক বিষয়েরও না। সেজন্য সেখানে আমরা চিন্তা করে কিছু করতে পারতাম। ফলে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করতে হবে, যেখানে যেখানে দুর্বলতা পাওয়া গেছে, সেখানে সেখানে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে যেভাবে সব কিছু সুষ্ঠু সমাধান করা যায়। আগামীতে যেন যারা অকৃতকার্য হয়েছে তারা যেন সফল হতে পারে এবং সকলের একটা ভালো ফলাফল যেন আশা করতে পারি।

পরিচিতি : শিক্ষাবিদ/ মতামত গ্রহণ : নৌশিন আহম্মেদ মনিরা/ সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ