প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজশাহীতে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৩ এমপিকে মৌখিক সতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রিটার্নি কর্মকর্তা বরাবর আটটি অভিযোগ প্রদান করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তপু। অভিযোগের পর ওই তিন এমপিকে ডেকে মৌখিকভাবে সতর্কও করেন রিটার্নি অফিসার।

বিএনপির দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেন রাজশাহী ৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী ৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা ও নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

২০ জুলাই রাতে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাইনুল ইসলাম হারু, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শিবলী, রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম আপেলকে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়। ২১ জুলাই আনুমানিক ভোর ৫টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ওয়ায়েস করনী ডায়মন্ড, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইফতিয়ার মাহমুদ বাবুকে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত (মাস্টাররোল) কর্মচারীদেরকে জোরপূর্বক, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি প্রদান করে নৌকার পক্ষে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজশাহীর এবং বহিরাগত কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী লোক দ্বারা সমগ্র শহরে ব্যাপকভাবে আমাদের কর্মীদেরকে লাঞ্ছিত, ভয়ভীতি প্রদর্শন, লিফলেট কেড়ে নেওয়া ও অফিস ভেঙে ফেলা অব্যাহত রয়েছে, পুলিশ বিভাগের মধ্যে একটি বিশেষ অঞ্চলের পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপকহারে গণ-গ্রেফতার, নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি, ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদান করছে। ২১ জুলাই দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী গোলাপকে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, রিটানিং কর্মকর্তা বরাবর দায়েরকৃত এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগের বিচার বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানের এই ভীতিকর অবস্থা গণগ্রেফতার বন্ধ, সন্ত্রাসীদের আক্রমণ প্রতিহত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিকার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, এর আগে যেসব অভিযোগ তারা দিয়েছে। সেগুলো তদন্ত করে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে আমরা জানার পরপরই তিন সাংসদকে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি আমাদের নির্দেশ না মানে সাংসদরা। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দেখবে। কারণ তাদেরকে (আইনশৃঙ্খলাবাহিনী) এ বিষয়ে অবহিত করা আছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতাসহ আমাদের নিয়মিত অভিযান র্দীঘদিন ধরে চলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় যদি কেউ আমলযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে। তাকে আমরা গ্রেফতার করে আইনের আশ্রয় নিয়ে আসছি। এখানে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কোন অযথা হয়রানি করা হচ্ছে না। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ