প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ বছর ধরে ভারতে আটকে আছে বাংলাদেশি বিমান!

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ প্রায় তিন বছর ধরে ভারতের একটি বিমানবন্দরে পড়ে আছে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের ওই উড়োজাহাজ ভারতের মাটিতে জরুরি অবতরণ করেছিল ২০১৫ সালে।

তখন থেকেই উড়োজাহাজটি পার্কিংয়ের জায়গা আটকে রেখেছিল বলে গত ২০ জুলাই, শুক্রবার সেটিকে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরিত করেছে।

ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ বক্তব্য, ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ওই এমডি ৮৩ বিমানের ইঞ্জিনে গুরুতর গণ্ডগোলের জেরে জরুরি অবতরণ করেছিলেন পাইলট।

যাত্রীদের দুদিন পরে অন্য একটি বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হলেও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমানটি তখন থেকেই ‘পার্কিং বে’-তে পড়ে আছে।
রায়পুর বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার রাকেশ সহায় বলেন, ‘ঢাকা থেকে ইউনাইটেড বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এসে বিমানের ইঞ্জিনটি বদল করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও ওরা বিমানটি ফেরত নিয়ে যায়নি। এদিকে আমাদের বিমানবন্দরের একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। আমাদের ওই জায়গাটার দরকার। শুক্রবার বিমানটিকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।’
শুক্রবার ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সামনেই ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাঁড়িয়ে থাকা বিমানটিকে সরিয়ে দেন।

তিন বছর ধরে কেন পড়ে রয়েছে?

এ প্রশ্নের উত্তরে সহায় বলেন, ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ আমাদের যেটা জানিয়েছে, তা হলো বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছ থেকে তারা বিমানটিকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি এখনো পায়নি। সেজন্যই এখানেই রাখা রয়েছে। তিন বছর ধরে বিমানটি এখানে রেখে দেওয়ার কারণে প্রায় ৬০ লাখ ভারতীয় টাকা বিলও হয়েছে তাদের।’
কী বলছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাংলাদেশ
সংস্থাটির ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যেটা বলেছে, সেটাই ঘটনা। আমাদের সিভিল এভিয়েশনের কাছ থেকে অনুমতি পাচ্ছি না বলেই বিমানটি সারিয়ে, ইঞ্জিন বদল করার পরেও সেটিকে ঢাকায় আনতে পারছি না।

সিএএবি বলছে, বিমানটিকে তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে যেতে হবে। এ রকম একটা নিয়ম আছে ঠিকই, কিন্তু যেহেতু এটা একটা দুর্ঘটনায় পড়া বিমান, তাই অনুমতি দিতেই পারত সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। ঢাকায় এনে বিমানটিকে সার্ভিসিং করা যেত। এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বিমানটিকে ফেরত আনার।’
এর জন্য যে অর্থ দিতে হবে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে, সেটা দিতে কোনো আপত্তি নেই বলেই জানান এম সাহাবুদ্দীন।
কেন জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল?

বিমানটি কেন ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আর ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বক্তব্যের মধ্যে কোনো ফারাক নেই। কিন্তু কোন পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল আমেরিকার ম্যাকডোনেল ডগলাস সংস্থার তৈরি ওই এমডি ৮৩ বিমানটিকে?

এ বিষয়ে রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার রাকেশ সহায় বলেন, ‘নাগপুরের কাছাকাছি যখন উড়ছিল বিমানটি, সেই সময়ে এর একটি ইঞ্জিন বসে যায় বা ফেল করে। পাইলট বিমানের মুখ ঘুরিয়ে রায়পুরে জরুরি অবতরণ করতে চান। সঙ্গে সঙ্গেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দুদিন পরে অন্য একটি বিমান এসে যাত্রীদের নিয়ে গিয়েছিল।’
এদিকে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উইং কমান্ডার আহমেদ বলেন, ‘ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা তদন্ত করে দেখেছি যে ওই কোম্পানির তৈরি একই মডেলের অন্য বিমানেও এ ধরনের ত্রুটি দেখা গেছে। খারাপ হয়ে যাওয়া ইঞ্জিনটা পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সেটাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বিমানটিকে কবে ঢাকায় ফেরত নেওয়া যাবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।’ সূত্র : প্রিয়.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ