প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাশরাফির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:  ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাওয়ারই কথা ছিল না মাশরাফি বিন মর্তুজার। স্ত্রী অসুস্থ। কিন্তু টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলকে যে বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে দলকে উদ্বুদ্ধ করতে নড়াইল এক্সপ্রেস ছাড়া কি হয়! সতীর্থরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে—মাশরাফির মনও পড়ে ছিল ক্যারিবীয় দ্বীপে। তাই স্ত্রী একটুখানি সুস্থ হওয়ার পর থেকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে রেখেই উড়াল দেন উইন্ডিজের উদ্দেশ্যে।

বেশ কিছুদিন ধরে বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। তারপর ক্যারিবীয় দ্বীপে টেস্টে তো চরম ব্যর্থ। হোয়াইটওয়াশ তো হয়েছেই, লজ্জার রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। টেস্টে এক ইনিংস সর্বনিম্ন রান—৪৩, ম্যাচে সর্বনিম্ন রান— ১৮৭। তবে টেস্ট সিরিজের বিপর্যয় মাথায় থেকে ঝেড়ে ফেলে আজ নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মাশরাফি দলে ফেরায় আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে। নড়াইল এক্সপ্রেস কী পারবেন ক্যারিশম্যাটিক কিছু করে দেখাতে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরেছেন দুই মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেল। বাংলাদেশ দলেও ফিরেছেন সেরা দুই পেসার। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান এবং স্বয়ং মাশরাফি।

বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে সব শেষ টেস্ট ম্যাচ এবং একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলেছেন জ্যামাইকায়। সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আজ প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি হবে জ্যামাইকা থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে গায়ানায়। নতুন কন্ডিশন। টাইগাররা নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারেন সেটাই বড় কথা। খেলা হচ্ছে গায়ানার প্রভিন্স স্টেডিয়ামে! সুখ স্মৃতির সেই প্রভিন্স স্টেডিয়াম যেখানে এক যুগ আগে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে হাবিবুল বাসার সুমনের সেই বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ হারিয়েছিল। যে ম্যাচে ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৭ সালের সেই দলের চার সদস্যও রয়েছেন এই বাংলাদেশ— মাশরাফি. সাকিব, মুশফিক ও তামিম।

লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি মাত্র ১৬ বলে খেলেছিলেন ২৫ রানের ইনিংস। ড্যাসিং ওপেনার তামিম করেছিলেন ৩৮ রান। সাকিব-মুশফিক দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে না পারলেও তাদের সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা আজ অনুপ্রাণিত করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। রফিক-রাজ্জাক-সাকিব মিলে প্রোটিয়াদের ছয় উইকেট নিয়ে ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন।

প্রভিন্স স্টেডিয়ামে বরাবরই বাড়তি সুবিধা থাকে স্পিনারদের জন্য। ২০১৩ সালে এই মাঠে পাকিস্তানের স্পিনার শহীদ আফ্রিদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ১২ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। যে ম্যাচে ক্যারিবীয়দের স্কোর ১০০ হয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কি এখনো গায়ানার উইকেট স্পিন স্বর্গ রেখেছে? প্রস্তুতি ম্যাচে খণ্ডকালীন স্পিনার মোসাদ্দেক ১৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর নিশ্চয়ই ক্যারিবীয়রা সতর্ক হয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশও প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের স্পিন অস্ত্রো উন্মুক্ত করেনি। গেইল-রাসেলরা যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন মেহেদী হাসানকে বোলিংয়ে আনা হয়নি। আর সাকিবকে তো খেলানোই হয়নি।

তবে উইকেট স্পিন সহায়ক না হলেই বা কি? বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে পেস আক্রমণও অনেক শক্তিশালী। রুবেল হোসেনের সঙ্গে যোগ হয়েছেন মাশরাফি ও মুস্তাফিজ। এই পেস-ত্রয়ীই বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন।

বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকলেও বাংলাদেশকে ভাবনায় ফেলতে পারেন ব্যাটসম্যানরা। টেস্ট সিরিজে ভরাডুরি পেছনেও কারণ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। তাই ওয়ানডে ম্যাচে আসল লড়াইটা হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। প্রস্তুতি ম্যাচে জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস একটু হলেও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাকিব-তামিম না খেললেও রান পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ ব্যাটিং করেছেন তিনি— ৭০ বলে খেলেছেন ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস। কিন্তু আজকের ম্যাচে দলে একাদশে লিটন থাকবেন কিনা!

কেন না তামিমের ইনিংস ওপেন করতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এনামুল হক বিজয়। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি। এখানেই বিজয়ের চেয়ে একটুখানি এগিয়ে থাকবেন লিটন। তা ছাড়া শুধু থেকেই দলের সঙ্গে থাকার কারণে ক্যারিবীয় দ্বীপের কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটা মানিয়ে নিয়েছেন। তবে ম্যাচের দিন উইকেটের অবস্থা দেখেই হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে কে দলে সুযোগ পাচ্ছেন—লিটন নাকি বিজয়! এছাড়া ব্যাটিং অর্ডার মোটামুটি একই রকম থাকবে। টেস্ট সিরিজে হারলেও ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে দেশবাসী প্রত্যাশা অনেক। কেন না টাইগাররা টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশ দল এই ফরম্যাটে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। তা ছাড়া এই ফরম্যাটে মাশরাফি নেতৃত্বে আছেন বলেই প্রত্যাশাও হয়তো বেড়ে গেছে! নড়াইল এক্সপ্রেসের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ