Skip to main content

সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণে দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে : শিবির সভাপতি

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, মূলত অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণে দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার জাতির ঘাড়ে অভিশপ্ত জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। সরকার ও তার পোষ্য সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শনিবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর সেলিম উদ্দিন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমানসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। শিবির সভাপতি বলেন, সরকার শুধু বিরোধী মতের মানুষই নয়, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদেরকেও গ্রেফতার নির্যাতন হয়রানির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অবৈধ সরকারের পৃষ্টপোষকতায় সন্ত্রাস ও নির্যাতন এখন জাতীয় দুর্যোগের রূপ ধারণ করেছে। দেশের কোন নাগরিক এখন স্বস্তিতে নেই। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি, গ্রেফতার বাণিজ্য, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস, মাদকের সয়লাব, সামাজিক অবক্ষয়, বিচারহীনতা, আইন আদালতের দলীয়করণ, ভোট ডাকাতি ও নিপীড়ণে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ আজ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। নূন্যতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। লাখো শিক্ষার্থী এক বিভীষিকাময় সময় অতিক্রান্ত করছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ছাত্রসমাজের প্রতি বিদ্ধেষী আচরণ করে আগামীর বাংলাদেশকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি গোটা ছাত্রসমাজকে উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছেন। ন্যায্য দাবী আদায় করতে গিয়ে অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থী গুম হয়ে যাচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মেধাবী ছাত্রদের প্রধানমন্ত্রীর পোষ্য সন্ত্রাসীরা হাতুরী পেটা করছে, প্রকাশ্য ছাত্রীদের শ্লীলতাহানী করছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রহস্যজনক নিরবতায় মনে হচ্ছে দেশের ছাত্রসমাজকে ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসীদের কাজে জিম্মি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর রাষ্ট্রীয় জুলুম নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই যখন তখন নেতাকর্মীদের গ্রেফার করা হচ্ছে। বাসা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ও বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবাররত অবস্থায় শত শত মানুষের সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার নাটক সাজাচ্ছে। ঈদ প্রীতি অনুষ্ঠানের মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠিয়ে নেতাকর্মীদের ভবিষৎ হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ ছাত্রলীগ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই জাতিকে খুন, ধর্ষণ, মাদক, হানাহানি ও সন্ত্রাস উপহার দিচ্ছে। এসব চিহ্নিত অপরাধিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো পুলিশের সামনেই অস্ত্রবাজী রক্তারক্তি করছে। কিন্তু তাদের গ্রেফতার দূরে থাক সামান্য নিবৃতও করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, রক্তে অর্জিত এদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলতে পারেনা। জনগণকে স্বৈরাচারের শিকলে আবদ্ধ রাখার এ অশুভ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের দাবী হচ্ছে, জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ছাত্রশিবিরের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে হবে। বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। গ্রেফতারকৃত কোটা আন্দোলনকারীদের মুক্তি, নিরাপদ ক্যাম্পাস, শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, হল নির্মানসহ সার্বিক সমস্যা সমাধান করে শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূর, বিসিএস-সহ সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোটা পরিহার করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যান্য সংবাদ