প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাশুড়ির পছন্দ না হওয়ায় বউকে খুন!

স্বপ্না চক্রবর্তী ও আশরাফুল ইসলাম কোহিনূর : মাত্র ৪ মাস আগে বউ হয়ে বাড়িতে এসেছিল কলেজ ছাত্রী নীপা। রেলওয়েতে কর্মরত স্বামী অসীম ধামের পছন্দ হলেও শাশুড়ি কোনোভাবেই নীপাকে বউ হিসেবে মানতে পারছিলেন না। অপছন্দের মাত্রা দিন দিন এত তিক্ত অবস্থায় গিয়ে পৌছায় যে শেষ পর্যন্ত খুন হতে হয় সদা হাস্যজ্জল নিপাকে।

হবিগঞ্জে মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের তুলসীপুর গ্রামের কালিরঞ্জন দেব এর তৃতীয় মেয়ে নিপা দেব রায় হবিগঞ্জের বৃন্দাব সরকারি কলেজের সম্মান (হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ) চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ৪ বোন ১ভাইয়ের পরিবারে কিছুটা আর্থিক অসচ্ছলতাই দায়ী ছিলো এতো অল্প বয়সে বিয়ে করার জন্য। স্বামী সরকারি চাকুরিজীবী। তাই স্বস্তিটাও ছিলো মাত্রাতিরিক্ত। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল শ্বশুড় বাড়িতে পা দিয়েই। নতুন বউকে সবাই বরন করেন নিলেও ছেলের মা কোনো ভাবেই বউ হিসেবে মানতে পারলো না নিপা দেবকে। এতে করে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার সকালে বাপের বাড়ি যাবার জন্য রওনা দিলে তার স্বামী অসীম ধাম গলায় ওড়না পেঁছিয়ে নিপাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন বড় বোন জবা দেব।

তিনি বলেন, আমার বোন প্রায়ই সময়ই তার উপর অত্যাচারের কথা বলতো আমাদের। এগুলো নিত্য ঘটনা হিসেবে আমরা এড়িয়ে গেলেও এর ফলাফল যে এরকম ভয়ংকর হবে ভাবতেও পারিনি। অসীম ধাম রাস্তা থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছে আমার বোনকে। আমার বোনের খুনির ফাঁসি চাই। এ ব্যাপারে এখনো মামলা করেন নি কেনো জানতে চাইলে জবা বলেন, বোনের বরের বাড়ির লোকজন আমাদেরকে মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তবুও আমরা মামলা করবো। তিনি জানান, আজ রবিবার হবিগঞ্জের জজকোর্টে মামলা নিপা হত্যার দায়ে তার স্বামী অসীম ধামসহ শাশুড়ির নামে মামলা করবেন।

এই হত্যাকান্ড নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে। আব্দুল জব্বার নামে একজন সমাজসেবী তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, বিচার চাই, বিচার চাই, বিচার চাই। অকালে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো নিপাকে। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ছাত্রী নিপার মা বাবা ও বড় বোন বলছে যে তার স্বামী নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছে। এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি।
নিপার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন সম্বলিত ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ললিত দেবনাথ নয়ন নামে একজন লিখেছেন, লাশ দাহ না করে হাসপাতালের হিমঘরে রেখে দিক। নিঃসন্দেহে প্রমাণ হবে সে নির্যাতনের শিকার

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার অসীম ধামসহ তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।