প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাত্রির যাত্রী’র কুশীলবগণ

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তারেক : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে যে কজন অনিন্দ্য সুন্দরী অভিনেত্রী এসেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানের একজন হলেন আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী। যিনি “মৌসুমী” নামেই বেশি পরিচিত। নব্বই দশকে বিনোদন ম্যাগাজিনের কল্যাণে ফটোসুন্দরী হয়ে দর্শকের নজরে আসেন এ রূপসীকন্যা। টেলিভিশন কমার্শিয়াল করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন সে অল্প বয়সেই। তারপর তো ইতিহাস রচিত হলো। নির্মিত হলো বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” এর ঢালিউডি রিমেক “কেয়ামত থেকে কেয়ামত”, অভিষেক হলো এক জোড়া নতুন মুখের। সালমান শাহ ও মৌসুমীর মাঝে সে সময়ের নানা বয়সের নর নারী নিজেদের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিল। রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান দুজনেই। অসময়ে চলে গিয়ে সালমান শাহ চলচ্চিত্র শিল্পকে শূন্য করে দিলেও মৌসুমী নিজগুণে কাজ করছেন আজো দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে। মৌসুমী বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের নায়িকা হলেও তিনি কাজ করেছেন “মাতৃত্ব”, “মেঘলা আকাশ”, “কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি”, “মেহেরনিগার”, “একজন সঙ্গে ছিল”, “গোলাপী এখন বিলেতে” প্রভৃতি সাহিত্য নির্ভর চলচ্চিত্রে। তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারসহ জিতেছেন অসংখ্য সম্মাননা। বর্তমানে সোশাল মিডিয়া ফেসবুকে রয়েছে তার সক্রিয় ফ্যান ক্লাব (টীম মৌসুমী)। সেই লাস্যময়ী, লাখো তরুণ-যুবার হৃদয়ের রাণী মৌসুমীর ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করতে যাচ্ছে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের চলচ্চিত্র “রাত্রির যাত্রী”।

চলচ্চিত্রের শিল্পী নির্বাচন নিয়ে পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব অনেকের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরই কন্যা আশনা হাবিব ভাবনাকে চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে নেয়ার জন্য। হাবিবুল ইসলাম হাবিব তাতে সায় দেননি। তিনি দূরদর্শী ব্যক্তি। তিনি ভেবে দেখলেন যে চরিত্র তিনি ভেবে রেখেছেন তা ফুটিয়ে তোলার মতো একজনই আছে বাংলাদেশে। তিনি আর কেউ নন, ১৯৯৩ সালে “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” দিয়ে বড়পর্দায় অভিষিক্ত হওয়া মিষ্টি হাসির মিষ্টি মেয়ে মৌসুমী। এমনকি ভাবনাও তার বাবার সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের চোখে এ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রটিকে রূপদান করার একমাত্র যোগ্য অভিনেত্রী হলেন মৌসুমী। বর্তমান সময়ে তিনি একইসঙ্গে বাণিজ্যিক ও কন্টেন্ট নির্ভর চলচ্চিত্রকে ফুটিয়ে তোলার সামর্থ্য রাখেন। তাই মৌসুমীর নাম নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি তাকে, সংশ্লিষ্ট সকলেই সমর্থন জুগিয়েছে মৌসুমীর প্রতি। নির্মাতা মনে করেন এ চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে নতুন এক মৌসুমীকে পাবে তার ভক্ত, দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

প্রিয়দর্শিনী খ্যাত মৌসুমীর বিপরীতে সে সময়ে ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় আসা অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলনকে সময়ের দাবী ভেবে নিয়ে চুক্তিবদ্ধ করেন পরিচালক। অভিজ্ঞ মৌসুমীর সঙ্গে তাই মিলনের মতো অপেক্ষাকৃত তরুণ অভিনেতার জুটি গড়ে উঠলো পরিচালকের মুন্সিয়ানায়।

আনিসুর রহমান মিলন মূলত মঞ্চের অভিনেতা। সালাউদ্দীন লাভলুর পরিচালিত নাটক “রঙের মানুষ” তাকে পরিচিত করে তোলে দর্শকমহলে। জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে সুচন্দা পরিচালিত চলচ্চিত্র “হাজার বছর ধরে”, এ চলচ্চিত্রে একটি ছোট্ট চরিত্রে কাজ করে বড়পর্দায় অভিষেক হয় মিলনের। তিনি ২০১৩ সালে “দেহরক্ষী”, “পোড়ামন” দিয়ে বড়পর্দায় সুঅভিনেতা হিশাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অন্তর্ভূক্ত করেন এ গুণী অভিনেতাকে।

সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রের জন্য তারকাখ্যাতি সম্পন্ন শিল্পীদের বেছে নিয়েছেন পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বাংলাদেশের কিংবদন্তী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, নায়করাজ রাজ্জাকের কনিষ্ঠ সন্তান সম্রাট, সালাউদ্দীন লাভলু, শহিদুল আলম সাচ্চু, রেবেকে রউফ, অরুণা বিশ্বাস, চিকন আলী, মারজুক রাসেলসহ আরো অনেকে অভিনয় করে সমৃদ্ধ করেছেন হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রথম চলচ্চিত্রটিকে। তাঁর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মঞ্চে কাজ করা শিল্পীরাও। প্রায় প্রতিটি চরিত্রে তারকাশিল্পীর অন্তর্ভূক্তি এ চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে এ সময়ের চলচ্চিত্রে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইইটিই বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত