প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কঠোর নিরাপত্তা সোহরাওয়ার্দীনে

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মান মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অর্জনের জন্য তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার বিকেল ৩টায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

গণসংবর্ধনা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সড়কের মোড়গুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ মাঠে রয়েছে। তৎপর রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরাও। পাশাপাশি মাঠে কাজ করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মৎস ভবন মোড়ে দেখা যায়, র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। মোতায়েন রয়েছে রায়ট কার ও এপিসি কার। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মোশারফ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু শেখ হাসিনা এই পথ দিয়েই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করবেন তাই যেকোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। যদিও কোন সমস্যা হবে না। এরপরেও পুলিশ তো পুলিশের মতো করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক।’

সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেল ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলছে খুবই কম পরিমাণে। দুপুরের পর চারদিকের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে চোখে পড়ার মতো। এখানে রায়ট কার, এপিসি কার ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন রাখা হয়েছে। শ্লোগানে শ্লোগানে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যেতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের। টিপ টিপ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা ছুটছেন সংবর্ধনা এলাকার দিকে।

সেখানে উপস্থিত শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। প্রধানমন্ত্রী আসছেন তাই এর ওপরে কোন নিরাপত্তা নেই যেটা আজ রাখা হয়েছে। লাখও মানুষের সমাগম হবে কাজেই নিরাপত্তাটাও সেইভাবে সাজানো হয়েছে।’ রিজার্ভ পুলিশও আনা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডেও। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এপিসি কার ও রায়ট কার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় কয়েক হাজার পোশাকধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। গোয়েন্দা পুলিশ প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে দায়িত্বে থাকবে। পেট্রোল টিম থাকবে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় রায়ট কার ও এপিসি কার রয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও কাজ করবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ে কোথাও কোন ঘাটতি রাখা হয়নি।

এর আগে শুক্রবার (২০ জুলাই) ডিএমপির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলামোটর থেকে শাহবাগ হয়ে মৎসভবন-কদম ফোয়ারা-হাইকোর্ট মোড়ের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কাটাবন থেকে শাহবাগ, নীলক্ষেত হয়ে টিএসসি, শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর, চানখার পুল হয়ে দোয়েল চত্বরের রাস্তাতেও যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এসব রুটের যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ