প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যমযম কূপের ইতিহাস

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির: যমযম কূপ মক্কার পবিত্র কাবা ঘরের পূর্ব পাশে অবস্থিত। মহান আল্লাহ তায়ালার মহিমা, তিনি কি না করতে পারেন তা এ সমস্ত নিদর্শন না দেখলে উপলব্ধি করা যায় না। হজ্বের মৌসুমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ পান করছে, আজ অবধি মক্কা-মদিনা শরীফের জন সাধারণ ও অগণিত তীর্থ যাত্রী পান করছেন এবং সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন ; কিন্তু পানির স্তর একটুও কমছে না বরং একই রকম আছে। মনে হয় মহা সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলিত হচ্ছে এবং ব্যাপক উত্তোলনের পরও পানির স্তরের পরিবর্তন হচ্ছে না। আল্লাহ পাকের কী অসীম রহমতের ধারা ! হাজার হাজার বছর আগের ঘটনা, কালের বিবর্তনে কোন পরিবর্তন নেই। চাহিদা অনুযায়ী পানি উত্তোলিত হচ্ছে; কিন্তু কমতি নেই। হযরত ইব্রাহিম (আ:) তাঁর প্রাণ প্রিয় শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ:) সহ বিবি হাজেরা কে ঊষর প্রস্তরময় পাহাড়-পর্বতঘেরা জন মানব শূন্য মক্কার এক উপত্যকায় আল্লাহর নির্দেশে নির্বাসনে পাঠানো হল। সেখানে না ছিল মানুষ, না ছিল আহার্যের কোনো ব্যবস্থা, না ছিল পানীয়জলের ব্যবস্থা।

পিপাসায় কাতর বিবি হাজেরা, প্রাণ ওষ্ঠাগত, দুগ্ধ পোষ্য শিশু পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ:) এর জীবন সংশয়, দুশ্চিন্তায় অধির হয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা রেখে পানির অন্বেষায় বের হলেন বিবি হাজেরা। পার্শ্ববর্তী সাফা পাহাড়ে, আরোহণ করে পানির জন্য চতুর্দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিলেন, হ্যাঁ , ঐ যে অদূরে অন্য একটি পাহাড়ের চূড়ায় চিক চিক করছে পানি! ভাল ভাবে দৃষ্টি প্রসারিত করলেন, হ্যাঁ ঠিক পানিই তো! ঐ পাহাড়ের ( মারওয়া) উদ্দেশ্যে ছুটলেন। এক দিকে পানিকে লক্ষ করছেন আর এক দিকে নিচে রেখে আসা নিজের শিশু পুত্রের দিকে খেয়াল রাখছেন। দু’ পাহাড়ের মাঝে বিবি হাজেরা, শিশু পুত্র আড়াল হয়ে পড়ছে তাড়াতাড়ি দৌড়ে পার হলেন পানির জন্য। কিন্তু হায় ! পানি কোথায়? প্রখর রৌদ্র তাপে প্রস্তরময় বালুকণা রাশিতে যে মরীচিকার সৃষ্টি হয়ে পানির মত দেখাচ্ছিল। আবার তাকালেন চতুর্দিকে, দেখতে পেলেন ফেলে আসা সাফা পাহাড়েই তো পানি! আবার ফিরলেন সাফা পাহাড়ের দিকে। পানির আশায় এভাবে একবার,দু’[বার নয় , সাত সাত বার দু’ পাহাড়ে ছুটলেন। স্রষ্টার প্রতি কী গভীর আস্থা, পানি মিলবেই। আর যদি নাও মিলে এভাবেই প্রাণ বিসর্জন দেবেন স্রষ্টার উদ্দেশ্যে।

তাতেও সুখ, পরম প্রাপ্তি। দু’ পাহাড়ে সপ্তম বার ছুটাছুটির পর দেখতে পেলেন হযরত ইসমাঈলের পাদদেশে পানি। বিবি হাজেরা তাড়াতাড়ি এসে শিশু পুত্রের কাছে দেখেন, হ্যাঁ ঠিকই পানি! শিশু পুত্রের খেলাচ্ছলে পায়ের গোড়ালির আঘাতে আঘাতে পানি আসছে।

মা হাজেরা তো অবাক। মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে পানি যাতে গড়িয়ে যেতে না পারে আশপাশ থেকে প্রস্তর ও বালু এন চার পাশে বৃত্তাকারে পানি যতটুকু গড়িয়েছে ততটুকু বাঁধ দিয়ে আটকালেন এবং পানিকে যমযম অর্থাৎ থাম থাম বললেন। তখন আল্লাহ পাকের নির্দেশে পানি স্থিতি হয়ে গেল। এ হল যমযমের গোড়ার কথা। আল্লাহ তায়ালার প্রতি অবিচল আস্থা ও ত্যাগের মহিমাকে গৌরবান্বিত করে রাখার জন্য এবং বিশ্ববাসীর নিকট এর মাহাত্ম্য অনুকরণীয় রাখার জন্য মহান রাব্বুল আলামীন মা হাজেরার দৃষ্টান্তকে হজ্ব ও ওমরাহকারীদের জন্য (হজ্বের রোকন হিসেবে) ওয়াজিব করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত