প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রামুর গর্জনিয়া বাজারে মিয়ানমারের গরুর ছড়াছড়ি

হাবিবুর রহমান সোহেল, নাইক্ষ্যংছড়ি: নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়া বাজারে মিয়ানমার তথা বার্ম্যাইয়া গরুর ছড়াছড়ি হয়েছে। যার কারণে স্থানীয় গরুর কদর কমে গেছে। এর ফলে এক দিকে যেমন সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। তেমনি সীমান্তে একটি বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে নির্বিঘ্নে আসছে গবাদিপশু।

এই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশুর চালান আসছে সামনে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে। প্রতিদিনই রামু কচ্ছপিয়ার মৌলভির কাটা, নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলি ও ফুলতলি সিমান্ত পাড়ি দিয়ে গরুর চালান ঢোকছে গর্জনিয়া বাজারে। মিয়ানমার থেকে আসা গরুর চাহিদা দেশিয় গরুর চাইতে বেশি।

তার কারণ হিসেবে দেখা গেছে, তাদের গরুর দাম তুলনা মূলক কম। তাই পশুর দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মন ভীষণ খারাপ। মিয়ানমার থেকে এবার যেভাবে গবাদিপশু আসছে সেভাবে দাম পাচ্ছেন না ওই সব অবৈধ চোরাই কারবারীরা। এছাড়া ভারত সীমান্ত থেকে আসা পশুর কারণেও গর্জনিয়া বাজারে ধস নেমেছে। অন্যবারের তুলনায় গরুর দাম এবার বেশ সহনশীল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের যেসব এলাকা থেকে বাংলাদেশে পশুর চালান আসছে সেসব এলাকার পরিস্থিতি এবার শান্ত রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা আকিয়াব জেলার ভুচিদং, ম্রিবুং, ছেপ্রুং, টকটুসহ বিভিন্ন এলাকা শান্ত থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে গবাদি পশু অবৈধ ভাবে আনতে পারছেন। এছাড়া এবারের পশু আমদানির সময়টিতে আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পশু এবার সিমান্ত দিয়ে গর্জনিয়া বাজারে এসেছে। এর পর ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওই সব গরু চালান করেছে প্রতিনিয়ত।

জানা যায়, রামুর গর্জনিয়া বাজার সাপ্তাহে দু বার বাজার বসে। যথাক্রমে সোমবার ও বৃহস্পতিবার। এই দু বাজারে সব চেয়ে বেশি গরুর চালান হয় বলে জানান, বাজার সংশ্লিষ্টরা। মিয়ানমার থেকে অবৈধ গবাদিপশুর অন্যতম চোরাই কারবারীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আছে বলে জানা যায়। আর ওই সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন, রামু কচ্ছপিয়া ইউনিয়ানের মোস্তাক সওদাগর। সে বর্তমানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বসবাস করছেন। সিন্ডিকেটের অন্যরা হলেন, রামুর কচ্ছপিয়া বালুবাসার জসিম মেম্বার, হাইস্কুল পাড়ার আমান উল্লাহ, নাইক্ষ্যংছড়ির আবদুল হামিদ, তিতার পাড়ার কালা মোক্তার, হাজির পাড়ার হাসেম, মৌলভির কাটার আবুবকর সহ আরো অনেকে।

এক ব্যবসায়ী জানান, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবচেয়ে বেশি পশু অবৈধ ভাবে আনা হয়েছে। অন্যজন বলেন, ‘আমরা যারা অবৈধভাবে আমদানিকারক তাঁরা কমিশনের ভিত্তিতে এই ব্যবসায় জড়িত। প্রতিটি পশু বিক্রি করে বড়জোর হাজার-১২’শ টাকা পাওয়া যায়। অবৈধ চোরাই পথে গরুর আনার বিষয়ে কথা বলতে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনায়ক আনোয়ারুল আজিমের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, বিজিবি সিমান্তে সব সময় কড়া অবস্থানে আছে। কেউ যদি চুরি তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই ভাবে গরু নিয়ে যায় তাহলে তাদের করার কিছু নেই বলে জানান তিনি। গর্জনিয়া গরুর বাজারে বিজিবির কোন অভিযান হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবির অধিনায়ক বলেন, গর্জনিয়া বাজার তাদের এরিয়া নই। ওটা রামুতে পড়েছে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ