Skip to main content

কোটার মোড়কে কাটা লুকিয়ে

অপু উকিল : কোটা সংস্কার আন্দোলনের মোড়কে কী লুকিয়ে আছে এবং এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী? এ নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর সেই সন্দেহর সূত্রপাত হয়েছে আন্দোলনের ধরণ দেখে। কোটা সংস্কার আন্দোলন সুধুই কোটা সংস্কার ভাবলে সেটা মস্ত বড় একটা ভুল হবে। কেননা, মেধাবিরা কখনোই কোটা সংস্কারের নামে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চাযের বাসভবনে রাতের আধারে ভয়াবহ হামলা করতে পারে না। তাই সহজেই বুঝা যায়, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভিন্ন, মেধাবি ও সাধারণ মানুষকে  ধোকা দিতেই কোটার মোড়ক লাগানো হয়েছে। আসলে জামাত-শিবির এই আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করতে চায়। সেকারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন হয়ে পা বাড়াতে হবে বলে মনে করি। দেশবাসি এই আন্দোলনের শুরুতেই দেখতে পেরেছে যে, এই আন্দোলনের মূল নেতারা শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত। সেকারণেই আন্দোলনের গোড়ার দিকে প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিলেও তারা তা মেনে না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়। যার মাধ্যমেই এই আন্দোলন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সন্দেহের সূত্রপাত হয়। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটার মোড়কে ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে। তাই সহজেই বুঝা যায়, কোটার মোড়কে কাটা লুকিয়ে আছে, আর সেই কাটা মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত করতে যাচ্ছে। এমন কাজ কোনোভাবেই প্রকৃত মেধাবিরা মেনে নেবে না। কোটা আন্দোলনকারী সকলে যদি প্রকৃত মেধাবি হয়ে থাকে, এই বাংলা ও বাঙ্গালীকে ভালোবাসে, তাদের মেধা দিয়ে এই জনপদের উন্নয়ন করতে চায়, তাহলে তারা কেনো বাংলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের উপাচার্যের বাস ভবনে হামলা করল? রাতের অন্ধকারে হামলা করে ভায়াবহ তান্ডব চলানো হয়েছিল কেনো? এমনভাবে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছিল যে, উপাচার্যের বাসভবনের সমস্ত কিছু গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্য কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তো কোটা সংস্কারের এখতিয়ার রাখেন না, তারপরেও কোটা আন্দোলনকারীরা ভিসির উপর কেনো হামলা করেছিল? এই ন্যক্কারজনক কাজ থেকেই বুঝা যায়, এই আন্দোলনের ভিতরে অন্যকিছু আছে। এই কোটা সংস্কারের আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধুই কোটা সংস্কার নয়। কোটার মোড়কে ভিতরে অন্যকিছু। যখন এই বাংলার নামটি পাকিস্তানের সাথে যুক্ত ছিল, তখন কতজন মেধাবি সরকারি চাকরি পেয়েছে, কতজন মেধাবি সচিব হয়েছে, কতজন মেধাবি জেনারেল হয়েছে, কতজন মেধাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি করার সুযোগ পেয়েছে? কিন্তু আজ আমরা সব পেয়েছি। স্বাধীন বাংলা পেয়েছি। এই বংলার সব কিছু আজ বাংলা ও বাঙ্গালীর সকল শ্রেণীর মানুষের। কিন্তু এই স্বাধীন বাংলা, স্বাধীনতা, স্বাধীন জনপথ কিসের বিনিময়ে পেলাম, কাদের আতœত্যাগে পেলাম, তা ভুলে গেলে চলবে না। এক সাগর রক্তের দাম দিতে হবে। তাদের সম্মান করতে হবে। তারাই প্রকৃত মেধাবি যারা স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বাংলার প্রকৃত মূল্য বোঝে ও সম্মান করতে জানে। পরিচিতি: সাধারণ সম্পাদক, যুব মহিলা লীগ/মতামত গ্রহণ: লিয়ন মীর/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

অন্যান্য সংবাদ