প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মান্নত সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

এসএম আরিফুল কাদের: মান্নত আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হল, নিজের
দায়িত্বে নেওয়া, নিজের দায়িত্ব নয় তা অপরিহার্য করে নেওয়া। শরয়ি পরিভাষায় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে সাধনের লক্ষ্যে কোনো কিছু উৎসর্গ করাকে মান্নত বলা হয়।

মান্নতের বিষয়ে সব ধর্মের অনুসারীরা একমত পোষণ করলেও মান্নতের ক্ষেত্র নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদ রয়েছে। যেমন, আদৌ মানতের বৈধতা আছে কিনা, মানত কোথায় করবে, মানত কিভাবে করবে, মানতের যৌক্তিকতা কি? ইসলামের দৃষ্টিতে মান্নত করা জায়েজ। কোরআনুল কারিমের ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা যেন তাদের মান্নতসমূহ পূরণ করে’। (সূরা হজ্জ : ২৯) তবে ইসলাম মোটেও মান্নত করার জন্য উৎসাহিত বা অনুপ্রাণিত করেনি। এখন তো মান্নতের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, এটা করবো ওটা পেলে। মান্নত করা হয়ে থাকে মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ওপর শর্ত আরোপের মাধ্যমে। যে কাজটি সত্যিকার অর্থে শুদ্ধ ও সুন্দর নয়। জায়েজ কিন্তু বিষয়টি সুন্দর নয়। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা) মান্নত করতে নিষেধ করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন আমাদের মান্নত করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, মান্নত কোনো কিছুকে ফিরাতে পারে না। তবে মানতের মাধ্যমে কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়। (সহিহ মুসলিম : ৪৩২৫) তাই মান্নত না করে তদস্থলে কাজায়ে হাজাত পড়ে নেওয়া অতি উত্তম। কেননা, রাসুল (সা) কোনো
সমস্যায় জর্জরিত হলে তাৎক্ষনিক সালাত পড়ে নিতেন।

হাদিসে আছে হযরত হুযাইফা (রা) বলেন, নবী করিম (সা) যখন কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন তৎক্ষণাত নামাজে আত্মনিয়োগ করতেন। (আবু দাউদ : ১৩১৯, মিশকাত : ১৩১৫) এই বিষয়ে হযরত ইবরাহিম (আ) এর ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। যখন তিনি অপহৃত হয়ে মিশরের লমপট বাদশাহ’র নিকট উপনিত হলেন ও অত্যাচারি বাদশাহ তার নিকট এগিয়ে গেল, তখন তিনি ওজু করে সালাতরত হয়ে আল্লাহ’র নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে বলেছিলেন ‘হে আল্লাহ! এই কাফেরকে তুমি আমার উপর বিজয়ী করো না’।

সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং ওই লমপট বাদশাহ’র হাত-পা অবশ হয়ে পড়েছিল। তিন তিন বার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বিবি সারাকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। আর বহু মূল্যবান উপঢৌকনাদিসহ তার খিদমতের জন্য হাজেরাকে তার সাথে ইবরাহিম (আ) এর নিকট পাঠিয়ে দেয়। (সহিহ বোখারি : ২২১৭,
আহমাদ :৯২৩০)

যদি কেউ মান্নত করে ফেলে তাহলে তাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলী ও নিয়ম-নীতি আছে। মান্নত দুই প্রকার: (ক) মানতের বিষয় হবে শরিয়ত অনুমোদিত ভাল কাজ। যেমন কেউ বলল, যদি আমি সুস্থ হই তাহলে তিনটি রোজা রাখব। এখানে মান্নতের বিষয়টি শরিয়ত অনুমোদিত একটি ইবাদত ও আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের বিষয়। শর্ত পূরণ হলে এ মান্নত আদায় করতে হবে।

লেখক: আলেম ও প্রাবন্ধিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ