প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কয়লা সংকটে বন্ধ হচ্ছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

ডেস্ক রিপোর্ট : মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়ার ১২১০-ডি নম্বর কূপের কয়লা উত্তোলন গত মে মাস থেকে বন্ধ। আরেকটি কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা চলতি মাসেই। কিন্তু খনি শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর বাধার কারণে নতুন কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনও সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে আমদানিরও পরিকল্পনা নেই বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের। ফলে বন্ধ হতে যাচ্ছে কয়লাভিত্তিক দেশের একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এ সপ্তাহেই কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হলে এ অঞ্চলে বিদ্যমান ঘাটতির সঙ্গে আরো ২৩০-২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি যোগ হবে। এতে চরম বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে উত্তরাঞ্চলের গ্রাহকরা। বন্ধ হওয়ার পর ফের কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে সে নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে একটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। ১২৫ মেগাওয়াট করে উৎপাদন ক্ষমতা বাকি দুটি ইউনিটের। পাশের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লাই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে। কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট পুরোদমে উৎপাদনে রাখতে প্রতিদিন কয়লার প্রয়োজন চার থেকে সাড়ে চার হাজার টন। এ হিসাবে দেড় থেকে দুই লাখ টন কয়লা এক মাসের জন্য মজুদ রাখার নিয়ম।
প্রয়োজনীয় কয়লা না থাকায় ১২৫ মেগাওয়াটের ইউনিট দুটি চলতি মাসের শুরু থেকেই বন্ধ। ২৭৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি চললেও সক্ষমতার অর্ধেকই অব্যবহূত থাকছে। গতকালও ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট। কয়লার মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বার্ষিক ১২ লাখ টন কয়লার চাহিদা থাকলেও খনি থেকে উত্তোলন হয় সাত লাখ টন। বিপিডিবি কয়লা উত্তোলনের সক্ষমতা যাচাই না করেই নতুন ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটি চালু করে। এ ইউনিটটির কারণে কয়লার চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে, দেখা গিয়েছে সংকট। মে মাসের শুরুতে ১২১০-ডি নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ সংকট আরো বেড়েছে।

চলতি মাসের শেষের দিকে ১৩১২ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা থাকলেও সেখানেও অনিশ্চয়তা ঝুলছে। ১৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী খনি এলাকায় কর্মবিরতি পালন করে। এ সময় নতুন খনির উন্নয়নকাজ ব্যাহত হয়। নতুন কূপটি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হতে আরো এক মাস সময় লাগবে। আগস্টের মাঝামাঝি বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে কূপটি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, চাহিদা বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে কয়লা সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমরা বিপিডিবিকে এক মাস আগে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। যে পরিমাণ কয়লা এখন মজুদ আছে, তা দিয়ে আরো কিছুদিন চলবে।

চলমান সংকটের কারণে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের এমডিসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও কোম্পানি সচিব মো. আবুল কাশেম প্রধানীয়াকে বদলি করা হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়েছে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মানিং) আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) এ কে এম খালেদুল ইসলামকে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে উত্তরাঞ্চল বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও। কারণ রাজশাহী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই বিপিডিবির। জরুরিভাবে রংপুরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হলে ভোল্টেজ সমস্যায় ভুগবে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরের সব গ্রাহক।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) সাঈদ আহমেদ এ প্রসঙ্গে  বলেন, সিরাজগঞ্জের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে, সেখান থেকে বিদ্যুৎ দেয়া যাবে। এছাড়া গ্যাসভিত্তিক যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোয় গ্যাস দেয়ার মাধ্যমে রাজশাহীতে উৎপাদন বাড়ানো হবে। তবে রাজশাহী থেকে রংপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ নিলে ভোল্টেজ সমস্যা হতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের দায়িত্ব পেট্রোবাংলার। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার মজুদ নিশ্চিতের পর বাইরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইট ভাটা, চা বাগান ও অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা বেশি দামে বাইরে বিক্রি করে দেয়ার কারণেও এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ