প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুলবুলের পাশে নেই, কাউন্সিলর নিয়েই ব্যস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পাশে নেই জোটের অন্য শরিকরা। বিশেষ করে নগরীতে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি থাকা জামায়াত ব্যস্ত তাদের ১৩ কাউন্সিলর ও দুই সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর প্রচারে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বাধা-হুমকি, পুলিশি হয়রানিসহ নানা চাপে কোথাও ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে না জামায়াতের নেতাকর্মীদের। মেয়র পদে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মুখোমুখি না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নীতি নিয়ে চলছে দলটি। ফলে বুলবুলের পক্ষে বিএনপিকে এককভাবেই মাঠ সামলাতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দলটির নেতারা।

এদিক থেকে মেয়র পদে ১৪ দলের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আছেন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে। আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল প্রতিদিন নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে নৌকার পক্ষে। দু-একটি বিষয়ে জোট শরিকরা আওয়ামী লীগের কিছুটা উপেক্ষার শিকার হলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে নৌকার পক্ষে মাঠে সক্রিয় ১৪ দলের নেতারা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ওয়ার্ডসহ আট-১০টিতে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত। আসন্ন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে জামায়াতের ১৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলটির দুই নারী প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এরই মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এখন ১, ২, ৫, ৬, ১৩, ১৪, ১৭, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এই এলাকাগুলোতে তাঁদের পক্ষে প্রতিদিন মাঠে কাজ করছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। কিছু এলাকায় তারা আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতিরোধের মুখেও পড়ছে।

১৭ জুলাই বিকেলে রাজপাড়া থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্ট কলেজ এলাকায় জামায়াতের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোখলেসুর রহমানের পক্ষে প্রচার চালাতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন জামায়াতের চার নারী কর্মী। পড়ে ভ্রাম্যমান আদালত ওই চার নারী কর্মীকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন। একই দিন নগরীর জাহাজঘাট এলাকায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা জামায়াতের আমির বেলী বেগমকে নির্বাচনী প্রচারে সরকারবিরোধী বক্তব্য রাখার অভিযোগে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করলেও কোথাও তাঁর সঙ্গে অংশ নিচ্ছে না জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আর ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের তেমন কোনো সাংগঠনিক অবস্থান না থাকায় তাদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর প্রচার কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে খোঁজ নিয়েও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতৃস্থানীয় কারোরই নাম, পরিচয় বা মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবু মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী ঠিক করা হয়েছে বুলবুলকে। আমরা তাঁর সমর্থনেই কাজ করছি। তবে পরিবেশগত কারণ, বিশেষ করে আমাদের থানা কমিটির আমির ও ওয়ার্ডের নেতা, এমনকি কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তার করা, নেতাকর্মীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধা—এসবের কারণে ঠিক আগের মতো বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আমাদের গণসংযোগে দেখা যাচ্ছে না। তবে আমরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে আমাদের মতো করে কাজ করছি।’

১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জামায়াতের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেই ঠিকমতো প্রচার চালাতে পারছি না। পুলিশের ভয়ে আছি। আমাদের জনশক্তি আমার পক্ষে আছে। কিন্তু তারা আতঙ্কে থাকায় আমার পক্ষেই ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কিভাবে কাজ করবে?’

জামায়াতের নিরাপদ দূরত্বে চলার নীতিতে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতারা। এ প্রসঙ্গে বুলবুলের নির্বাচন সমন্বয়ক ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াত কোথায় কিভাবে নির্বাচনে প্রচার চালাচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। জোটের শরিকদের অন্য কেউ আমাদের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না, তা বলতে পারব না। মেয়র প্রার্থী ২০ দলীয় জোটের হলেও জামায়াত আমাদের হয়ে নির্বাচনের কাজ করছে না।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জামায়াত এখন চায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়। মেয়র নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে তারা আমাদের থেকে দূরত্বে অবস্থান নিয়েছে। এটা কাম্য নয়।’

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। প্রায় প্রতিদিনই ১৪ দলের আয়োজনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একটি করে পথসভা ও গণসংযোগ করা হচ্ছে। গত বুধবার বিকেলে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে ১৪ দলের একটি বড় পথসভা হয়।

গতকাল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করে জোটের শরিকরা। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর রেলগেট এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করবে ১৪ দল। জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের নেতাকর্মীরা দলীয় উদ্যোগেও নৌকার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

রাসিক নির্বাচনে জয় পেতে এরই মধ্যে মহানগরে ১৪ দলের একটি সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হয়েছেন রাজশাহী মহানগর ন্যাপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে জোটের শরিকদলগুলো থেকে দু-একজন করে প্রতিনিধি আছেন। কমিটির নেতারা নিয়মিত নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু বলেন, ‘আমরা ১৪ দলের প্রার্থীর পক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ করছি। প্রতিদিন জোট ও দলীয়ভাবে আমরা নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করছি। বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা চাই এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করুক।’

বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ : মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল সকাল ৮টা থেকে দিনব্যাপী গণসংযোগ করেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। গণসংযোগকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ধানের শীষের ভোট আরো বেড়ে যাচ্ছে। ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। রাজশাহীর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। দলের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য নেই। মহানগর, জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা দিন-রাত ধানের শীষের জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সব কাজকর্ম পরিহার করে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারগণ ধানের শীষের জন্য মাঠে নেমেছে। এতে সরকার দলীয় প্রার্থী ও নেতারা ভীত হয়ে পড়েছে। এখন তারা প্রতিহিংসার পথ বেছে নিচ্ছে।

সকালে নগরীর বিনোদপুর বাজার থেকে পদযাত্রা করে বুধপাড়া, মির্জাপুর ও মোহনপুর এলাকায় গণসংযোগ করে নেতাকর্মীরা। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টু, মতিহার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন প্রমুখ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আজ : গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মুরাদ মোর্শেদ আজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। নগরীর মুনলাইট গার্ডেনে সকাল ১১টায় এ ইশতেহার ঘোষণা হবে। গতকাল দিনব্যাপী মুরাদ মোর্শেদের হাতি প্রতীকের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী ও রাজশাহী গণমঞ্চের আহ্বায়ক আবুল হাসনাত বেগসহ দলটির নেতারা। সকাল ১০টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মুরাদ মোর্শেদের পক্ষে নগরীর গণকপাড়া মোড় থেকে একটি প্রচার মিছিল বের করা হয়। বিকেলে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহলস্নায় গণসংযোগ করেন গণসংহতির নেতারা।
সূত্র

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ