প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত এসেই মুখ খুললেন ইমরান এইচ সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে চার সপ্তাহের জন্য আমেরিকা সফরে যেতে দেওয়া হয়নি গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ইমরান এইচ সরকারকে। শুক্রবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠার পর তাকে নামিয়ে আনা হয়। পরে তাকে আর বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরেন ইমরান।

এরপরই  তার সঙ্গে কথা হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তুলে ধরেন তিনি।
প্রশ্ন: আপনি যেতে পারেননি শেষ পর্যন্ত?
ইমরান: না। আমার ইমিগ্রেশনের সবই কমপ্লিট ছিল। প্লেনে উঠেছি, ওই সময় গিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে আসছে। তারা বলছে যে, পুলিশ আপনার সঙ্গে কথা বলবে।
প্রশ্ন: কয়টার দিকে এই ঘটনা?
ইমরান: আমার ফ্লাইট ছিল সাড়ে ৭টায় এমিরেটসে। এজন্য ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করেছি ৫টার পরপরই। আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে সাড়ে ৫টার দিকে। আমি বিমানে উঠার পরে। আমাকে ডাকলো, আমি গেলাম। আমার ইমিগ্রেশন কমপ্লিট হওয়ায় আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার বিরুদ্ধে তো কোনোও মামলাও নাই বা কোনও অভিযোগও নাই। যে মামলাটি ছিল সেটাও তো স্থগিত হয়ে গেছে। তারা বললো, মামলা বা অভিযোগ থাকলে তো আপনি ইমিগ্রেশন পার হতে পারতেন না। আর ইমিগ্রেশন যেহেতু কমপ্লিট আপনি যেতে পারবেন। তবে আমাদের একটু কথা বলতে হবে। আমরা উপরের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া আপনাকে যেতে দিতে পারবো না।
প্রশ্ন: তারপর?
ইমরান: ওই সময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দিকে তাদের ইঙ্গিত ছিল। তারা তাদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। সেখানে কথা বলে বলে সময় কাটাচ্ছিল। ফ্লাইটের টাইম পার হওয়ার পর তারা জানিয়েছে, আমাকে যেতে দিতে পারছে না। তাদের কিছু করার নেই, এটা সরকারের নির্দেশ। ওই সময় আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, আমাকে কিসের ভিত্তিতে যেতে দিবেন না? জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সেটা আমরা বলতে পারবো না। সরকারের ওপর থেকে যে নির্দেশ আসে আমাদের তাই করতে হবে।
প্রশ্ন: আপনার সঙ্গে কারা কথা বলেছেন?
ইমরান: ইমিগ্রেশন অফিসাররাই কথা বলেছেন। যিনি দায়িত্বে আছেন তিনিই কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: ওই কর্মকর্তার নাম জানতে পেরেছেন?
ইমরান: নামটা আমার মনে নাই। তবে তিনি সেখানকার শীর্ষ কর্মকর্তা।
প্রশ্ন: আপনি এয়ারপোর্ট থেকে ফিরেছেন কখন?
ইমরান: আমার লাগেজ ও পাসপোর্ট তাদের কাছে ছিল। এসব ফিরিয়ে দিতে তারা গড়িমসি করছিল। লাগেজ আনতে সময় লাগবে বলে জানাচ্ছিল। পরে তারা বলছে, ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করায় আমি অফিসিয়ালি দেশের বাইরে আছি। তারা চিন্তা করছিল, আমাকে ফেরত পাঠাবে কিভাবে! তারা বলছিল, আমি যেন পারিবারিক কারণ দেখিয়ে আমার ইমিগ্রেশন বাতিল করছি মর্মে স্বীকারোক্তি দিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করি। আমি বলেছি, না। আমি কোনও মিথ্যা কাগজে সাইন করবো না। আমাকে তো আপনারা যেতে দিচ্ছেন না। আমাকে লিখতে বললে আমি তাই বলবো। পরে আমি কোনও কাগজে স্বাক্ষর করিনি। এসব করেই কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। তারা আরও বলছিল, আমি গ্রেফতার বা আটক হতে পারি। আমি তাদের বলেছি, তাহলে আপনারা আমাকে গ্রেফতার করেন। তখন তারা বলে যে, না আপনার নামে তো কোনও মামলা নাই, তাহলে কিভাবে গ্রেফতার করবো! এসব করেই কিছু সময় নষ্ট করে, শেষে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন: পরে বাসায় ফিরেছেন কখন?
ইমরান: ১১টা বাজেনি, তার আগেই ফিরেছি।
প্রশ্ন: এই ঘটনাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ইমরান: আমি আসলে খুবই লজ্জিত, যে আমার দেশের এই ধরনের অবনতি। আমি ফেসবুকে লিখেছি, ১৯৫৭ সালে এই একই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুও আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ওটা তার প্রথম আমেরিকা সফর ছিল। ৫৭ সালে তো পাকিস্তান আমল ছিল। তখনও উনাকে কোনও ধরনের বাধা দেয়নি পাকিস্তান সরকার। আর বাংলাদেশ থেকে, স্বাধীন দেশ থেকে আমি এক জায়গায় দেশের পক্ষে কথা বলতে যাবো, আমার অহিংস আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে যাবো। বিভিন্ন লিডারশিপ এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে কথা বলবো, সেখানে দেশের মানবাধিকারসহ সামগ্রিক গণতন্ত্রের যে পরিস্থিতি সেসব নিয়ে আমার বক্তব্য ছিল। এছাড়াও ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে আমার কথা বলার কথা ছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানে তারা কথা বলতে দিচ্ছে না এটা মোটেও গণতান্ত্রিক আচরণ না। আমি মনে করি যে, সরকার তার নিজের আচরণ দিয়েই প্রকাশ করছে যে, তারা কতটা অগণতান্ত্রিক।
প্রশ্ন: বিষয়টি নিয়ে আপনি সরকারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন?
ইমরান: না, আমি চেষ্টা করিনি। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ