Skip to main content

অনাস্থা ভোটে টিকে গেলো মোদি সরকার: মোদিকে হঠাৎ জড়িয়ে ধরলেন রাহুল

ইমরুল শাহেদ : অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনাস্থা ভোটে জিতে গেলো বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। অবশ্য লোকসভায় ভোটাভুটির আগে থেকেই নিজেদের বিজয়ের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিলো মোদি সরকার। যদিও, এই অনাস্থা ভোটে বিজয়ী হওয়া নয় বরং এর মাধ্যমে মোদির প্রতি ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জই গুরুত্বপূর্ণ এমনটাই জানিয়েছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম।তবে গতকালের অনাস্থা প্রস্তাবের পূর্বে অনুষ্ঠিত বিতর্কে নাটকিয়তাও কোন অংশে কম ছিলোনা। অনাস্থা প্রস্তাব বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে তুলাধুনো করার পর বিরোধী দলীয় নেতা কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী নিজ আসন থেকে হেটে এসে আচকাই জড়িয়ে ধরেন মোদিকে। এ সময় রাহুল বলেন: ‘আপনি আমাকে হয়তো পাপ্পু বলতে পারেন, কিন্তু আমি আপনাকে ঘৃণা করি না।’ এনডিটিভি জানায়, শুক্রবার ভারতের লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। মোদিকে এ যাবতকালের সবচেয়ে তীর্যক আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। ভাষণে মোদি সরকারের সমালোচনা যেমন করেছেন, তেমনি নিজ দলের প্রশংসাও করেছেন। পরে আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা শেষ করেন রাহুল গান্ধী। আচমকা ঘটে যাওয়া এই ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুটা হতভম্ব হয়ে যান মোদিও। পরে অবশ্য নিজেকে সামলে রাহুল গান্ধীর পিঠ চাপড়ে দেন তিনি। এরপর রাহুল গান্ধী নিজের আসনে ফিরে যান। আসনে বসে নিজ দলের এক সাংসদের দিকে তাকিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ চোখ মারেন, ঠিক যেন সেই প্রিয়া প্রকাশের মতো। এর আগে সমালোচনায় মুখর রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে বলেন: ‘তিনি চৌকিদার নন, তিনি ভাগীদার প্রধানমন্ত্রী। সবাই জানেন কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এমন একজনকে তিনি রাফায়েল চুক্তি দিয়েছেন, যেখান থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা পাবেন। আমি দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী হাসছেন, কিন্তু এর মধ্যেও দুর্বলতার ছোঁয়া আছে এবং তিনি এখন আমার চোখের দিকে তাকাতে পারবেন না।’ প্রধানমন্ত্রীর দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথাগুলো বলেন তিনি। তারপরই সবাইকে চমকে দিয়ে সোজা নরেন্দ্র মোদির দিকে এগিয়ে যান। ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আলিঙ্গনে খুশি নন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। এমন আচরণ সংসদে চলতে পারে না বলে তার অভিমত। তিনি বলেছেন, যেভাবে রাহুল আলিঙ্গন করেছেন, তা ঠিক হয়নি। সভার একটা রীতি বা নিয়ম, ডেকোরাম আছে। প্রধানমন্ত্রী যখন সভায় বসে রয়েছেন, তখন তিনি ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদি নন, দেশের প্রধানমন্ত্রী। শুধু মোদিকে জড়িয়ে ধরাই নয়, রাহুল যখন নিজের আসনে ফিরে গিয়ে চোখ মারেন, সেটাও সভার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই, সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি বলে মত ব্যক্ত করেন স্পিকার। প্রধানমন্ত্রী পদের সম্মান ও সভার গরিমা আছে, তা সকলেরই মেনে চলা উচিত বলে স্পিকার মন্তব্য করেন। এসময়ই লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন জানিয়ে দেন সংসদে ৭ ঘন্টা আলোচনার পরই হবে ভোটাভুটি। অন্যদিকে ৭ ঘন্টা আলোচনার পর ভোটাভুটির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি আলোচনার জন্য ৭ ঘন্টা যথেষ্ট নয়। বিরোধিদের কন্ঠরোধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি এদিন লোকসভায় তেড়েফুঁড়ে ওঠে টিডিপি’র সাংসদরা। টিডিপি সাংসদ জয়দেব গাল্লা এদিন স্পিকারকে জানান, মোদি সরকারের জন্যই অন্ধ্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অন্ধ্রের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে মোদি সরকার। ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অন্ধ্রের মানুষ কষ্টে আছে। অন্ধ্রকে ভাগ করে তেলঙ্গানা হওয়ায় বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তার ভূমিকা যথাযথ পালন করেনি। তাহলে কেন এই সরকারের উপর আস্থা থাকবে? বিশ্বাস হারালে বিশ্বাস ফেরত পাওয়া যায় না। আর যেসব ইস্যুতে মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে তার মধ্যে প্রধান ইস্যুগুলো হলো জিএসটি, মুদ্রা অচল ঘোষণা, বেকারত্ব, বিনা বিচারে দেশব্যাপী হত্যা এবং রাফালে চুক্তির দুর্নীতি। ২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১৫ পর এই অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হলো। বলা হচ্ছে ভারতীয় পার্লামেন্টের ইতিহাসে এই অনাস্থা ভোট ২৭তম। অনাস্থা ভোটে জিতে, মোদি সরকার কার্যত হয়তো পড়ে যায়নি, কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাবিয়ে তুলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে।

অন্যান্য সংবাদ