প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়াকে জে‌লে রে‌খে বাংলা‌দে‌শে কোনও নির্বাচন হ‌বে না : আমান উল্লাহ আমান

শিমুল মাহমুদ : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জে‌লে রে‌খে বাংলা‌দে‌শে কোনও নির্বাচন হ‌বে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে কারাগা‌রে রে‌খে খ‌ুলনা ও গা‌জীপুর মার্কা নির্বাচন কর‌তে চায়। কিন্তু সরকারের এই উদ্দেশ্য সফল হবে না।

কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও গণত‌ন্ত্রের মাকে বন্দী ক‌রে‌ছে এই অবৈধ সরকার। মিথ্যা মামলায় তা‌রেক রহমানকে সাঁজা দি‌য়ে‌ছে এই জালিম সরকার। তারেক রহমানকে দে‌শে ফি‌রি‌য়ে আন‌তে হ‌বে। তার জন্য আমা‌দের যা করার দরকার কর‌তে হ‌বে।

তিনি ব‌লেন, সংস‌দে শেখ হা‌সিনা ব‌লে‌ছি‌লেন দে‌শে কোনও কোটা থাক‌বে না, কোটা সংস্কার করা হ‌বে না সব কোটা বা‌তিল কিন্তু তি‌নি এখন বল‌ছে কোটা থাক‌বে। এক মু‌খে দুই কথা তি‌নি একজন মিথ্যাবা‌দী প্রতারক।

তিনি আরও ব‌লেন, হা‌সিনার এ অহংকার বেশি দিন থাক‌বে না। তা‌র পতন হ‌বে এবং বেগম খা‌লেদা জিয়া এই দে‌শের প্রধানমন্ত্রী হ‌বেন।

বিএন‌পির নেতাকর্মী‌দের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে আমান ব‌লেন, ‘আপনারা প্রস্তুত থাকেন। এই সৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে হ‌বে। সরকারের পতন ঘটাতে আর একটা ধাক্কা দি‌তে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্রের মা বেগম জিয়া কেন বন্দি করা হয়েছে। আপনারা কী তা জানেন? এসময় জনতা হ্যাঁ সূচক উচ্চারণ করলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আবারও ভোট ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি ও রক্তাক্ত বাংলাদেশ করতে চায় কিন্তু এবার সেই সুযোগ তাকে দেয়া হবে না।’

যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘ভোট চোর, অর্থ চোর, ব্যাংক চোর, সব কিছুর চোরের সরকারের অধীনে দেশে আর কোনও নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’

সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর ১টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকে বিএনপির ও এর অঙ্গ-সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। এসময় তারা মিছিল থেকে মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন।

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র বিএনপি অফিস ও পল্টন মোড়, ফকিরাপুল মোড়সহ এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ বলছে, ২৩টি শর্ত সাপেক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে বিএনপিকে ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ’ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, গণশিক্ষা বিষয়হ সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম আজাদ,স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক করামুল হাসান মিন্টু, সহ-সভাপতি নাজমুল, জহুরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত