প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাত্রির যাত্রী: শুটিংয়ের গল্প

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তারেক: বিজয়ের মাসের শুরুতে বাংলা চলচ্চিত্রের বিজয়ের প্রয়াসে শুটিং শুরু হয়েছিল হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রথম চলচ্চিত্র ‘রাত্রির যাত্রী’ চলচ্চিত্রটির। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কমলাপুর রেলস্টেশানে প্রিয়দর্শিনী লাস্যময়ী মৌসুমীর শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরা অন হয় নতুন ভাবনার এ চলচ্চিত্রটির। টানা দুদিন সেখানে শুটিং চলে।

প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীকে দেখার জন্য, তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অসংখ্য মানুষ হাজির হয়ে গিয়েছিল শুটিং স্পটে। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। মধ্যরাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ‘রাত্রির যাত্রী’ পরিবার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীকে নিয়ে শুটিং করতে গিয়ে অনুধাবন করেছে মানুষের ভালোবাসা কেমন হতে পারে একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর জন্য। সিনেমার শুটিং সম্পন্ন করার জন্য শুটিং ইউনিট সহায়তা নিয়েছে কর্তৃপক্ষের, এগিয়ে এসেছে আগত দর্শকরাও। সাধারণ যাত্রীদের আগ্রহও লক্ষ্যণীয় ছিল মৌসুমীর শুটিং দেখার জন্য। সবার সহযোগিতায়, ভালোবাসায় হাবিবুল ইসলাম হাবিব এগিয়ে নিয়ে যান চলচ্চিত্রটির শুরুর শুটিং।
কমলাপুর রেলস্টেশনে থেমে থাকেনি সিনেমার শুটিং। এর ব্যাপকতা ছিল বিশাল। সবার চিরচেনা এফডিসিতেও শীতের রাতে শুটিং হয়েছে। লাস্যময়ী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, অরুণা বিশ্বাস, চিকন আলী, মারজুক রাসেলসহ অনেকেই কনকনে ঠাণ্ডায় অভিনয় করে গেছেন সিনেমাটিকে ভালোবেসে, দায়িত্ববোধে বলিয়ান হয়ে।

হাতিরঝিলেও সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল, পরিচালক ঢাকা শহরের নতুন এ নান্দনিক স্থাপনার পূর্ণ ব্যবহার করেছেন তার শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। পুবাইলের শুটিং স্পটেও কাজ করেছেন পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। চিত্রায়ন করেছেন গানের দৃশ্য। সৌন্দর্যের রাণী মৌসুমীর সঙ্গে রসায়ন ফুটিয়ে তুলেছেন নাটকের শক্তিমান অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। বন্দী হয়েছেন সেলুলয়েডে। তাঁদের গানের দৃশ্যের স্থিরচিত্রতে ফুটে উঠেছে রোমান্টিক আবহ।

শুটিংস্পট হিশেবে ব্যবহৃত হয়েছে উত্তরা, পান্থপথ, ধানমন্ডিসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা। শুটিংয়ের জন্য পূর্ণ সহযোগীতা করেছে উপস্থিত দর্শনার্থীসহ সকলে। পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব তারকা শিল্পীদের একই সুতোয় গেঁথে সম্পন্ন করেন শুটিং। সবার ভালোবাসায়, সহযোগীতায় ধীরে ধীরে শুটিং শেষ হয় “রাত্রির যাত্রী” চলচ্চিত্রটির।

শুটিং করার সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পুবাইলের কিছু দৃশ্য পুণরায় শুট করতে হয়েছিল। শুটিং’র ফুটেজ নষ্ট হয়ে যায় অপ্রত্যাশিত কারণে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হন নির্মাতা। সব সামলে, শিল্পীদের সহযোগীতা নিয়ে আবার একই দৃশ্যের চিত্রায়ণ হয়।

‘রাত্রির যাত্রী’ নামটি কী করে পরিচালক ঠিক করলেন? এ নিয়ে তিনি মজার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সিনেমার গল্প প্রস্তুত, নাম ঠিক করতে পারছিলেন না। গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে কি নাম দেয়া যায় তার কোন হদিস তিনি করে উঠতে পারছিলেন না। একজন নারীকে নিয়ে গল্প, এক রাতের গল্প। তিনি গল্প প্রস্তুত করেছিলেন বেশ আগেই। নাম নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। কি নাম দেয়া যায় তার প্রথম চলচ্চিত্রটির? আশে পাশে নানান জনের কাছে পরামর্শ নিয়েছিলেন, কেউ তাঁর মন মতো কোন নাম জানাতে পারেননি। হাল ছাড়েননি মেধাবি এ নির্মাতা। ভাবনার রাজ্যে হারিয়ে যেতে লাগলেন সময় পেলেই। এভাবেই কোন একদিন রাতে ধানমন্ডির রাস্তায় তিনি হাঁটছিলেন। তখন মধ্যরাত। হাঁটতে হাঁটতে তার হঠাৎ মনে হলো নামটি হবে ‘রাত্রির যাত্রী’। রাতের আঁধারে হাঁটার সময়েই ঠিক হয়ে গেল তার চলচ্চিত্রের নাম।

 

[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইইটিই বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ