প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত, বিল ব্যাখ্যায় যুক্তি সুষমার

প্রতিবেদক: বাংলাদেশি হিন্দুরা এখন আর ভারতে আসছে না। যদি আসত তা হলে বাড়ত না বাংলাদেশের হিন্দু জনসংখ্যা। এমন সরকারি পরিসংখ্যান দিয়েই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে রাজ্যসভায় সুর চড়ালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সুষমা যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট হয়েছে বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টি। পাশাপাশি আসামের একাংশ বুদ্ধিজীবী যেভাবে বুঝাতে চাইছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা সরাসরি ভারতে আসবে তা যে নিতান্তই অমূলক, এটাও প্রকারান্তরে স্পষ্ট হয়ে গেল সুষমার ব্যাখ্যায়।

এ দিন সংসদের উচ্চকক্ষে রীতিমতো পরিসংখ্যান দিয়ে সুষমা স্বরাজ বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আসছে, এ ধারণা অমূলক। বাংলাদেশ জনসংখ্যা ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ২০১১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮.৪ শতাংশ। ২০১৭ সালে দেথা গিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দু জনসংখ্যা ১০.৭ শতাংশ পযর্ন্ত বেড়ে গিয়েছে। মাত্র ৫ বছরে ২.৩ শতাংশ হিন্দু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র থেকেই স্পষ্ট, এখন আর সে দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে কেউ ভারতে আসছে না । তবুও ২০১৪ সাল পযর্ন্ত ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে ভারতে এসে আশ্রয় হিন্দু বাংলাদেশীদের আশ্রয় দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

মূলত এ দিন রাজ্যসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তর উত্থাপন করা বিষয়ের বিবৃতি দিতে গিয়ে সুষমা স্বরাজ দাবি করেছেন যে গত বাজেট অধিবেশনেই সংশোধনী বিলটি পাশ হতে পারত।কিন্তু সংসদের সব কাজ পণ্ড হয়ে যাওয়ায় জন্য সংশোধনী বিলটি ঝুলে রইল। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হলেই বাংলাদেশি হিন্দু,শিখ,জৈন,খ্রিষ্টান,বৌদ্ধ সহ সে দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়য়ের লোকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত হবে।পাশাপাশি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা ঐ দুই দেশের নির্যাতিত সংখ্যালঘুরাও ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে অনায়াসে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় সুষমার বিবৃতি চলার সময় কংগ্রেস সাংসদ ভুবনেশ্বর কলিতা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। যদিও এর আগেই স্বপন দাশগুপ্তর প্রশ্নের জবাবে সুষমা স্বরাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেন হিন্দু বাংলাদেশির সমস্যা সম্পর্কে। নয়াদিল্লি যে এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত রয়েছে তা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গক্রমেই সুষমা স্বরাজ টেনে আনেন বাংলাদেশের ব্রাহ্মবাড়িয়ার ঘটনা। ব্রাহ্মবাড়িয়ায় হিন্দুদের ওপর ধর্মীয় নির্যাতনের বিষয়টি যে ঢাকা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে তা শোনান তিনি। ব্রাহ্মবাড়িয়ার হিন্দু নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িত ৬৭ জন লোকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তারা এখনও সে দেশের কারাগারে বন্দী হয়ে রয়েছে তা শোনান তিনি। টেনে আনেন রংপুরের একজন লোকের উস্কানিমূলক কাজের বিরূদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও।

কার্যত বাংলাদেশের সংখ্যালঘু লোকদের ওপর ধর্মীয় নির্যাতন ,হত্যা অপহরণ,বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণ,মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমনের ঘটনায় ভারত সরকার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। দ্বিপাক্ষিক আলেচনার সময় ভারতের তরফে বারবার প্রতিবেশী বাংলাদেশেকে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে দিল্লি। এর ফলেই ক্রমশ কমেছে সে দেশের হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা। এ দিন আসামের একাংশ লোক যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বার বারই বলছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ লোক আসাম আসবে এটার বিরোধিতা করেছেন বিদেশমন্ত্রী। কার্যত এই বিল পাস হলে অতীতে বাংলাদেশ ,পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেওয়া সেই দেশগুলোর সংখ্যালঘু নাগরিকদের অবস্থান স্পষ্ট হবে। এইসব অপপ্রচারের বিরূদ্ধে এ বার জবাব দেওয়ার চেষ্টাই করলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিশেষ করে আসামের একাংশ বুদ্ধিজীবী যেভাবে এই বিল পাস হলে বাংলাদেশ থেকে সব হিন্দুরা ভারতে চলে আসবেন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তা অমূলক বলে প্রমাণ করতে চেয়েছেন সুষমা স্বরাজ। সূত্র: দৈনিক যুগ শঙ্খ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত