প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতারা মাঠে থাকলেও কর্মীরা ঘরে

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহী মহানগরের অলিগলিতে নৌকার পক্ষে ভোটের প্রচারে নেমেছেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। দলটির প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যাজধারী কর্মীরা ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। ভোটের স্লিপ, লিফলেট বিতরণ করছেন তারা। কিন্তু বিএনপির কর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতারা দলীয় প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে আদাজল খেয়ে নামলেও, কর্মীদের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলার ভয়ে তৃণমূলের কর্মীরা নামছে না। তবে দলটির সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত করতেই নেতারা মাঠে আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যকার বিরোধও কর্মীদের নিষ্ফ্ক্রিয়তার একটি কারণ।

৩০ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। আর মাত্র ১০ দিন বাকি। কিন্তু বিএনপির কর্মীদের ভোটের মাঠে চোখেই পড়ে না। কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা যেখানে প্রচারে যাচ্ছেন, কর্মীরা শুধু সেখানেই যাচ্ছেন। ভোটের জন্য পোলিং এজেন্ট সংকটও রয়েছে বিএনপিতে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৩৭টি সাংগঠিনক ওয়ার্ডের ছয়টির সভাপতির সঙ্গে কথা হয়। তাদের সবারই কথা- কর্মীরা ভয়ে মাঠে নামছে না। তাদের আশঙ্কা, এখন কিছু না হলেও ভোটের পরে বিপদে পড়তে পারে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে নামলে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেনও বললেন একই কথা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শুরু থেকেই ভোটের প্রচারে আছেন। সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তাফা ছাড়াও রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ভোটের মাঠে আছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা এসেছে, যারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটে নামবেন না তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। সম্প্রতি বিএনপির প্রবীণ নেতা কবির হোসেনের বাড়িতে বৈঠকে রাজশাহীর নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বুলবুল হারলে দায় নিতে হবে সবাইকে।

তবে বিএনপির কর্মীরা বলছেন, এ কারণেই নেতারা মাঠে আছেন। কিন্তু কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নেমে কী পাবেন।

স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান মেয়র পদে দলের মনোনয়ন না চাইলেও তার সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের দূরত্ব রয়েছে। মিনু মহানগর সভাপতির পদ হারিয়েছেন বুলবুলের কাছে। তাই মিনুর অনুসারীরা পুরোপুরি নামেনি বুলবুলের পক্ষে। মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইটও মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে নিষ্ফ্ক্রিয়। তবে সুইট বলেছেন, তিনি প্রচারে সক্রিয়।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন দাবি করলেন, দলীয় বিরোধ নয়, ভয়ের কারণেই মাঠে নামছে না কর্মীরা। ভোটের প্রচারে নামলে মামলায় পড়তে হবে, এ আশঙ্কা রয়েছে কর্মীদের মধ্যে।

২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোলায়মান হোসেন বলেন, মামলার ভয় ও বাধা দুই-ই রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত বুধবারও পূর্বপাড়া শমসের মণ্ডল মোড়ে মহিলা দলের কর্মী সাদিনা আক্তারকে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। তার হাত থেকে বিএনপির লিফলেট কেড়ে নেওয়া হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮। বুথ সংখ্যা এক হাজার ২৬। প্রতি বুথে একজন করে এজেন্ট দিতে পারবেন প্রত্যেক প্রার্থী। এজেন্ট পেতে বিএনপি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক এজেন্ট পাচ্ছে না। এ জন্য সরকারের চাপকে দায়ী করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, যাতে কেউ এজেন্ট না হয়।

তবে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন বলেছেন, দুই হাজার কর্মীকে তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব দিতে। আজ শুক্রবার থেকে এজেন্ট প্রশিক্ষণ শুরু হবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ