প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুনের আগে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে মারধর করা হয়

ডেস্ক রিপোর্ট: পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গত বুধবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ ও বাড্ডা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তারা হলেন- কথিত মডেল ও অভিনেত্রী মেহেরুন্নেছা স্বর্ণা ওরফে আফরিন ওরফে আন্নাফি, সুরাইয়া আক্তার কেয়া, ফারিয়া বিনতে মীম ও মিজান শেখ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন এসব তথ্য জানান।  খবর: সমকাল

আবদুল বাতেন আরও জানান, মামুন হত্যাকাণ্ডে আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এই চারজনকে নিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে নিহত মামুনের বন্ধু রহমতুল্লাহকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রহমতুল্লাহ বলেছেন, তিনি মামুনকে হত্যা করেননি। হত্যার পর লাশ গুমে সহায়তা করেছেন।

গত ৮ জুলাই সবুজবাগ এলাকা থেকে বনানী যাওয়ার পর মামুন নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবুজবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ১০ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলুখোলার এক জঙ্গলে মামুনের পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবদুল বাতেন জানান, মামুন ও রহমতুল্লাহ একে অপরের বন্ধু। তারা অপরাধবিষয়ক নাটকে অভিনয় করতেন। কথিত মডেল ও অভিনেত্রী আফরিন রহমতুল্লাহর পরিচিত। ৮ জুলাই আফরিন বনানীর বাসায় রহমতুল্লাহকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেন। বন্ধু হিসেবে মামুনকে সঙ্গে করে ওই বাসায় নিয়ে যান রহমতুল্লাহ। মামুন নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে যান এবং রহমতুল্লাহ যান নিজের প্রাইভেটকারে। বাসায় ঢোকার কিছুক্ষণ পরই ৪-৫ যুবক তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের মধ্যে দিদার, আতিক, স্বপন ও মিজান শেখ নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আফরিন খারাপ মেয়ে। তোরাও খারাপ উদ্দেশ্যে এসেছিস।’ এ সময় মামুন নিজেকে পুলিশ পরিদর্শক পরিচয় দিলে স্বপন নামে এক যুবক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা সবাই তাকে মারধর শুরু করেন। মামুনের মুখে স্কচটেপ ও রহমতুল্লাহর হাত-পা বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে মামুন মারা যান ঘরের মধ্যেই। কিল-ঘুষিতে মামুনের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। রহমতুল্লাহর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন। পরে তারা লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। পরদিন সকালে লাশ বস্তায় ভরে রহমতুল্লাহর প্রাইভেটকারে করে গাজীপুরের উলুখোলার জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পেট্রোল ঢেলে লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে পথের মধ্যে পেট্রোল কিনেছিলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আফরিনসহ ওই চক্র ফ্ল্যাটে মানুষ ডেকে ফাঁদে ফেলেন। নারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি তুলে তা প্রকাশ করা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। রহমতুল্লাহকে টার্গেট করেছিলেন তারা। তাকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ওই ফ্ল্যাটে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু মামুনকে হত্যার পর পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। আতঙ্কে রহমতুল্লাহ তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে লাশ গুমে অংশ নেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া চারজনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত