প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনের আলোয় জয় পেয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট : চোখের আলো না থাকলেও মনের আলোয় জয় পেয়েছে সিলেটের দুই শিক্ষার্থী। এবারের এইচএসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে তারা। কয়েছ মিয়া ও সমিরঞ্জন বিশ্বাস নামের শিক্ষার্থীর দুজনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তাদের সাফল্যে আনন্দ বইছে সিলেট দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। তারা এই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী।

২০০৬ সালে গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন জিডিএফ উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে সিলেটের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষার্থী কয়েছ ও সমির। এরপর নগরীর রসময় উচ্চবিদ্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি ও এসএসসি পাশ করে। সর্বশেষ সিলেট ইউনিভার্স্যাল কলেজ থেকে অংশ নিয়ে এইচএসসি পাশ করে তারা। কয়েছ মিয়ার প্রাপ্ত জিপিএ-৩.০৮ ও সমির এর প্রাপ্ত জিপিএ-৩.০০। দুজন শ্রুতি লিখন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়ে এ সাফল্য অর্জন করে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন জিডিএফ এর প্রতিষ্ঠাতা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সদ্য প্রয়াত রজব আলী খান নজিব।

শিক্ষার্থী কয়েছ মিয়ার শ্রæতি লেখক হিসেবে পরীক্ষায় সহযোগিতা করে সিলেট গ্রীনসিটি ইন্টারন্যাশনাল কলিজিয়েট স্কুল এর নবম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ শাহান আহমদ ও সমীর রঞ্জন বিশ্বাসের শ্রুতি লেখক হিসেবে সহযোগিতা করে রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র বসুদেব ভট্টাচার্য ।

মোঃ কয়েছ মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আসামপুর গ্রাম। তার পিতার নাম মোঃ সাবাজ আলী ও মায়ের নাম মোছাঃ আমিনা বেগম। সমীরঞ্জন বিশ্বাসের বাড়িও একই জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামে। তার পিতার নাম সুবল বিশ্বাস ও মাতার নাম ললিতা রাণী বিশ্বাস। দুটি পরিবারই মৎস আহরণ করে সংসার চালায়। ছোট বেলা থেকেই কয়েছ ও সমিরঞ্জন গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন জিডিএফ পরিচালিত সিলেটের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়ে পড়ছে।

দীর্ঘ দিন থেকে গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন জিডিএফ ব্রেইল পদ্ধতিতে সিলেট বিভাগের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক/অনাবাসিক ব্যবস্থায় সাধারণ শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, চলন প্রশিক্ষণ, প্রাত্যহিক জীবনযাপন প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিলেট জেলায় এই প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কয়েছ ও সমিরঞ্জন এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করে।

গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন জিডিএফ এর ম্যানেজার স্বপন মাহমুদ জানান, ছোট বেলা থেকেই কয়েছ ও সমিরঞ্জন আমাদের কাছে আছে। দরিদ্র বাবা মা মাঝে মাঝে এসে দেখে যান। আমরা আমাদের সাধ্যমত তাদের উপযক্ত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। তাদের উচ্চ শিক্ষাগ্রহণে ও আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : বার্তা২৪.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ