প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরীক্ষা পদ্ধতিকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা!

ডেস্ক রিপোর্ট : এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ দুটিই কমেছে। শুধু তাই নয় গত কয়েক বছরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব থেকে খারাপ ফলাফল হয়েছে এ বছর।

খারাপ ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশ। তারা এই খারাপ ফলাফলের জন্য এবারের এইচএসসি পরীক্ষার পদ্ধতিকে দায়ী করছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবছরে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের এক্সপেরিমেন্টের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের গ্রাফ নিচের দিকে নামছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় গত কয়েক বছরের এইচএসসি ফলাফলের পরিসংখ্যান দেখলেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখে গেছে, ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার গড় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৫০ জন, ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী।

এর বিপরীতে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা গতবারের চেয়ে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে গত দুই বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ব্যাপকহারে। চলতি বছর জিপিও ৫ এর সংখ্যা ৩০ হাজারেরও নিচে নেমে গেছে। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ হাজার ২৬২ জন

মাহাবুবা রহমান মেয়ে তানিয়া মাহবুব রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার্থী। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৪ পেয়েছে।

মেয়ের জিপিএ-৫ না পাওয়ার বিষয়ে মাহাবুবা রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, পরীক্ষার পদ্ধতির কারণে আমার মেয়ে জিপিএ-৫ মিস করেছে। কেননা তার যে প্রস্তুতি ছিলে সে অনুযায়ী জিপিএ-৫ পাওয়ারই কথা ছিল।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে রিটেন ছিল ৪৫ নাম্বার ও এমসিকিউ ছিল ৩০ নাম্বার। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই এমসিকিউ ৩০ থেকে ২৫ আনা হয়েছে এবং রিটেন ৪৫ থেকে ৫০ নাম্বার করা হয়েছে। ফলে ৫০ নাম্বারের সৃজনশীল প্রশ্ন লেখার জন্য সময় বরাদ্দ কমে গিয়েছিল। এসব কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে শিক্ষার্থী সুমায়া তাবাসুম বার্তা২৪.কমকে বলেন, অনন্য বার রিটেন প্রশ্ন পত্রর পর এমসিকিউ দেওয়া হত, কিন্তু এবার শুরুতে এমসিকিউ দেওয়া হয়। এছাড়া এমসিকিউর নাম্বার কমিয়ে দিয়ে রিটেন নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

তবে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিকে দায়ী করছেন না শিক্ষকরা। কোচিংয়ে বাণিজ্যের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা অভিমত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, সার্বিক ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে পাসের হার কমার পিছনে কোচিং সেন্টারগুলো দায়ী। এসব কোচিং এর পিছনে শিক্ষার্থীদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়।

তবে বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, এমসিকিউ শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। এতে শিক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন হবে। কেননা এমসিকিউর কারণে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি কমে যাচ্ছে। তারা মুখস্থ বিদ্যার দিকে ঝুঁকছে বেশি। ফলে সব বিষয় বিবেচনা করলে এবারের ফলাফল ভালো হয়েছে।

এ বিষয়ে এমিরেটাস অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, সার্বিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে এবারের পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফলাফল ভালো হয়েছে। যদিও এমসিকিউ নাম্বার কম থাকায় ফলাফলে কিছুটা প্রভাব পরেছে। কিন্তু এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক দিক।

তিনি বলেন, কেননা এমসিকিউর জন্য শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যার দিকে ঝুঁকে থাকে বেশি। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়ার দ্রুত দরকার। -বার্তা ২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত